নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পূর্বতন তৃণমূল আমলের মতো পার্টি অফিসে বসে নয়, নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের হাত ধরেই হবে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে একমাত্র মানদণ্ড করে বড়ো ওয়ার্ডগুলিকে ভেঙে নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হবে। ফলে বাড়বে ওয়ার্ডের সংখ্যা। বুধবার স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। আগের দিন তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আগামী নভেম্বরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন বোর্ড গঠনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।
উমেশ রাইয়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় হাওড়া পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। একেকজন আধিকারিককে ১৫ থেকে ২০টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। কোথাও নিকাশির সমস্যা, কোথাও রাস্তা বেহাল, কোথাও আবার রাস্তা উপচে গিয়েছে জঞ্জালে। এত কাজ সামলানো নির্দিষ্ট কোনো অফিসারের পক্ষে মুশকিল। তাঁর দাবি, কোনো কোনো ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে সকলকে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সেকারণেই জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বড়ো ওয়ার্ডগুলিকে ভেঙে নতুন ওয়ার্ড তৈরি করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংযুক্ত এলাকা বা অ্যাডেড এরিয়ার ৪৫ থেকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ো অংশ পুনর্বিন্যাসের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সেগুলিকে ভেঙে নতুন ওয়ার্ড গঠনের সম্ভাবনা প্রবল। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক পরিষেবার অভাব নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এইসব এলাকার বাসিন্দারা। গত বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রার্থীদের বারে বারে শুনতে হয়েছে সেই ক্ষোভের কথা।
নাজিরগঞ্জের বাসিন্দা শেখ সেলিম বলেন, ‘রাস্তা খারাপ হওয়ায় অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।’ গড়পাড়ের রীনা দাসের অভিযোগ, ‘বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ নেই, নিকাশির অবস্থাও বেহাল।’ মল্লিকপাড়ার দেবেশ বিশ্বাসের কথায়, ‘ওয়ার্ড এত বড়ো যে, কোনো সমস্যারই দ্রুত সমাধান হয় না। ভাগ হলে পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।’ কোনা আমবাগানের বিকাশ নস্কর বলেন, ‘বহু বছর পুরভোট হয়নি। এবার যেন দ্রুত নির্বাচন হয়, জনপ্রতিনিধি ফিরলে এলাকার সমস্যারও সমাধান হবে।’ শিয়ালডাঙা ও শেখপাড়ার বাসিন্দাদের আশা, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে রাস্তা, আলো, পানীয় জল, নিকাশি সহ মৌলিক পরিষেবার উন্নতি হবে। নিকাশি নিয়ে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন মধ্য হাওড়ার সাতকড়ি চ্যাটার্জি লেনের বাসিন্দা পীযূষ মুখোপাধ্যায়ও। এদিন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, হাওড়ার পাশাপাশি বালি পুরসভাতেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিংয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কয়েকপ্রস্থ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।