নির্দোষের নামে অভিযোগ, গড়িয়াহাটের দোকানে গয়না চুরি, পাকড়াও প্রকৃত অভিযুক্ত
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গড়িয়াহাটের এক জুয়েলারি দোকানের মালিক সন্দেহের বশে তাঁরই দোকানের এক কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় সোনার গয়না চুরির অভিযোগ করেছিলেন। তবে অভিযুক্ত ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেননি তদন্তকারী অফিসাররা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যাঁকে সন্দেহ করা হয়েছিল তিনি সোনার গয়না সরাননি, বরং ওই দোকানেরই আরেক কর্মী সুশীল পালকে এই ঘটনায় জড়িত। ওই ফুটেজের ভিত্তিতে রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টক মেলানোর সময় দোকান মালিকের কয়েকটি গয়না দেখে সন্দেহ হয়। পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেখেন, সেগুলি সোনার নয়, ইমিটিশনের। তাহলে আসল গয়না গেল কোথায়? হিসাব করে দেখেন, ১৩০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না উধাও। মালিকের সন্দেহ গিয়ে পড়ে সেই কর্মীর দিকে, যিনি দিনের শেষে গয়নাগুলি মিলিয়ে ভল্টে তুলে রাখেন। তাঁর নাম রঞ্জিত দাস। মালিকের ধারণা হয়, স্টক মেলাতেই তিনি সেখানে ইমিটেশনের গয়না রেখে দিয়েছেন। তার উপর ওই কাজের দায়িত্বে থাকা কর্মী বেশ কিছুদিন ধরেই কাজে আসছিলেন না। এমনকি, কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলছিলেন। স্বভাবতই সন্দেহের বশে রঞ্জিতের নামে গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মালিক। তদন্তে নেমে বেশ কয়েকবার ওই কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন অফিসাররা। কিন্তু তাঁর কথায় কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। সেকারণে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্ত নেন, দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করবেন তাঁরা। শেষমেশ টানা তিনমাসের ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন তদন্তকারীরা। তাতেই আসল সত্য বেরিয়ে আসে। দেখা যায়, যে কর্মীর নামে অভিযোগ, তিনি সোনার গয়না লোপাটের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সেখানকার আরেক কর্মী সুশীল পাল সোনার অলঙ্কারের বদলে গয়নার বাক্সে ইমিটিশনের অলঙ্কার ভরছে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন নির্দোষ ব্যক্তির নামে অভিযোগ হয়েছে। সব তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ের পর ওই কর্মীকে ডাকা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। দীর্ঘ জেরায় সে ভেঙে পড়ে। সুশীল জানায়, টাকার লোভেই সে সোনার গয়না হাতিয়েছে। ওই সোনার গয়নার মূল্য প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা। এরপর তার বাড়িতে হানা দিয়ে ৪০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।