


বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য: মহাকবি কালিদাসের গল্পটা নিশ্চয়ই সবার জানা। গাছের ডালে বসে সেই ডালকেই কাটতে উদ্যত হয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার অস্কার ব্রুজোঁর মন্তব্য শুনে কালিদাসের গল্প মনে পড়ল। হায় অস্কার। নির্বোধের মত মন্তব্য করে নিজের বিপদ ডেকে আনছেন নিজেই। স্প্যানিশ কোচের বোঝা উচিত, দলের ঊর্ধ্বে নন কেউই। আর সাফল্য টিম স্পিরিটের উপর নির্ভরশীল। দায়িত্ব নিয়ে সেখানেই কুঠারাঘাত করছেন স্প্যানিশ কোচ। কঠিন সময়ে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াই কোচের কাজ। দুঃখিত মিস্টার অস্কার ব্রুজোঁ, দিস ইজ নট কোচিং। কখনো বিবর্ণ নন্দকে খেলিয়ে কখনো ভুলভাল দল নামিয়ে তাল কেটেছেন অস্কার। এবার হাওয়ায় তির ছুড়ে লোক নাই বা হাসালেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে চিরিচ মিলোভানের সান্নিধ্যে আসি। তবে চোটের কারণে অকালেই দাঁড়ি পড়ে ফুটবল কেরিয়ারে। তারপর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে কোচিং শুরু। বহু বিদেশি কোচের সাহচর্য পেয়েছি। বিপক্ষ ডাগ-আউটে বসে তাল ঠোকাঠুকিও কম হয়নি। প্রতিটি কোচেরই আলাদা কোচিং দর্শন। মুগ্ধ করেছেন অনেকেই। কিন্তু অস্কার ব্রুজোঁকে দেখে আমি তাজ্জব। শনিবার প্রবল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। অথচ তার ২৪ ঘণ্টা আগে খেলা নিয়ে আলোচনা ভ্যানিশ। সোশ্যাল সাইটে ব্রুজোঁর মন্তব্য নিয়ে জোর বিতর্ক! কেউ বা কারা নাকি দলের সাফল্যে খুশি নয়। এসব পাগলের প্রলাপ। প্রথম দুই ম্যাচে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় ইস্ট বেঙ্গল। তখন তো অস্কার একথা বলেননি। তার মানে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। নিজের ঘাটতি ঢাকতে অন্যকে অহেতুক আক্রমণ। একেবারেই অপরিণত মানসিকতার কদর্য উদাহরণ। অস্কারের বোঝা উচিত, সম্মান আদায় করে নিতে হয়। অহেতুক জলঘোলা করা অর্থহীন। তিনি কোচিং করানোর জন্য টাকা পান। সেটাই মন দিয়ে করুন। অনেকদিন পর শক্তিশালী দল গড়েছে ইস্ট বেঙ্গল। হাজার হাজার সমর্থক ট্রফি জেতার স্বপ্ন দেখছেন। এমন সময়ে একটা আলপটকা মন্তব্য সব আশায় জল ঢালতে পারে।