নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরিটেজ ভেঙে পার্টি অফিস তৈরি করে আদালতের কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছিলেন তৃণমূলের শিক্ষাকর্মী নেতারা। অবৈধ নির্মাণ ভাঙার পাশাপাশি চার শিক্ষাকর্মী নেতার চাকরিও গিয়েছিল। এবার বি টি রোডের সেই মরকৎকুঞ্জ ক্যাম্পাসেই ঐতিহ্যবাহী বঙ্কিম সভাকক্ষে কর্মসূচিকে ঘিরে বিতর্কে জড়াল আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। শিক্ষকদের অভিযোগ, ১৩ আগস্ট এই কক্ষে উপাচার্যের জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসে সভা পরিচালনা করেন এবিভিপি নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন আরবুটা-র সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎস্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘১৮৭৬ সালে এই ঘরেই কিশোর রবীন্দ্রনাথ প্রথম দেখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। যাঁর লেখা পড়ে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন, তাঁকে সামনাসামনি দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন কিশোর কবি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পরে এই কক্ষটি বরাদ্দ হয় কোর্ট, এগজিকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি) বা ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের মতো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য। সেখানে এই ধরনের রাজনৈতিক সভা করা বা উপাচার্যের চেয়ারে বসে থাকা খুবই আপত্তিকর। আমরা বিষয়টি উপাচার্যকে জানাব।’ নতুন উপাচার্য সন্দীপ চক্রবর্তী অবশ্য জানান, এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
জানা গিয়েছে, এবিভিপির শাখা সংস্থা রাষ্ট্রীয় কলা মঞ্চের অনুষ্ঠান ছিল সেদিন। উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের রাষ্ট্রীয় সংযোজক অভিজিৎ দীপ। তাঁর পাশেই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য বিভাগের ছাত্র তথা রাষ্ট্রীয় কলা মঞ্চের কলকাতা মহানগরের সংযোজক মানবেশ দত্ত। তাঁর বক্তব্য, ‘উপাচার্যের চেয়ার আলাদা করে সরিয়ে রাখা ছিল। সেখানে কেউ বসেনি। তাছাড়া, তৃণমূল আমলে অনেক সভা এখানে হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের চেয়ারে পা তুলে সিগারেট টানতে পর্যন্ত দেখা গিয়েছে। কলা মঞ্চের অনুষ্ঠান যথেষ্ট রুচিপূর্ণ ছিল।’ অধ্যাপকদের অনেকে অবশ্য বলছেন, টিএমসিপির প্রবল দাপাদাপির মধ্যেও এই কক্ষে তাদের অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়নি। এখন এবিভিপি এবং তাদের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এমন অনেক কর্মসূচি নিচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি।