Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার, মিলবে না পাইলট কার

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল।

অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার, মিলবে না পাইলট কার
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল। তাঁর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং পাইলট কারের সুবিধা আর বহাল থাকছে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যালোচনা শেষে সোমবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এই সিদ্ধান্তের জেরে সাংসদদের জন্য যে নিরাপত্তা ক্যাটিগরি নির্ধারিত করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, এখন থেকে সেই ‘এক্স’ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পাবেন অভিষেক। এই ক্যাটিগরিতে একজন পিএসও সমেত দু’জন নিরাপত্তারক্ষী পাবেন তিনি। ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের সভায় মঞ্চে উঠে অভিষেককে চড় মেরেছিলেন দেবাশিস আচার্য নামে এক যুবক। তারপর থেকেই নিরাপত্তার বহর বাড়ে অভিষেকের। ১০ বছর পর সেই ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালা বদলের পরই কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি থেকে বাড়তি নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। গুটিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ কিয়স্ক, ফুটপাত আটকে রাখা গার্ড রেল এবং ব্যারিয়ার। ওই বাড়িতে বসানো ছিল স্ক্যানার মেশিন। সরিয়ে নেওয়া হয় তাও। নিরাপত্তার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হরিশ মুখার্জি রোডে পুরানো দুটি বাসরুট ফের চালু করা যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে সরকারি স্তরে। 
এদিন নবান্ন সভাঘরে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা সহ শীর্ষকর্তা এবং পুলিশ কমিশনার এবং এসপি’দের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন  নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক কাজ শুরুর প্রথমদিনের সেই বৈঠকে ডিজি পদমর্যাদার এক পুলিশকর্তাকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো রোজ আমার সিকিউরিটি বদল করতেন। অবশ্য আপনার কোনও দোষ নেই। আমি জানি, কার নির্দেশে এটা করতেন।  এবার থেকে রোজ আপনাকে ওই তৃণমূল সাংসদের সিকিউরিটি বদল করতে হবে।’ এদিনের বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নতুন করে পর্যলোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, প্রকৃত ঝুঁকি না থাকলে কাউকে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।  প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় করা হবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পরেই  ডিরেক্টর সিকিউরিটির আধিকারিকরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যালোচনা করেন। সেই পর্যালোচনা শেষেই অভিষেকের নিরাপত্তা বহর ছোট করা হয়েছে।   যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগ্য সম্মান জানিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন কলকাতা পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন, উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এবং তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে ‘সিন্ডিকেটরাজে’ কোপ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কড়া নির্দেশ, বন্ধ করতে হবে এই সিন্ডিকেটরাজ। একে আর মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না। তাঁর আরও নির্দেশ, কয়লা-বালির মতো বেআইনি কারবার বন্ধ করতে হবে। গোরুপাচার এবং বেআইনি গোরুর হাট বন্ধ করার জন্য পুলিশ সুপারদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। এই বৈঠকে পুলিশ অফিসারদের মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পুলিশ কর্তাদের প্রতি শুভেন্দুর কড়া নির্দেশ, প্রত্যেক বাইক চালককে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরতে হবে। নির্দেশ না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পুলিশ কর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তা আটকে ধর্মীয় আচার বন্ধ করতেও পুলিশ কড়া অবস্থান নিতে বলেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি গোটা রাজ্যে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ