


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: এসআইআরের নথি হিসাবে আধার কার্ডকে বাতিলের চেষ্টা নস্যাৎ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শুধু আধার কার্ডই নয়, পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট এবং পরীক্ষা পাশের শংসাপত্রও নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য। গত ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা পড়া নথির ভিত্তিতেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নিষ্পত্তি হবে। ইআরও-এইআরও’রা যাচাই করে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের দেবেন। নথির ব্যাপারে বিচারকদের সন্তুষ্ট করার দায়িত্ব ইআরও-এইআরও’দেরই। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তবে তারপরেও লাগাতার অতিরিক্ত তালিকা বের করতে হবে। এবং সেগুলি চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে যুক্ত হবে। একথা জানিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নাগরিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সুবিচার করতেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ প্রয়োগ করছি।’
বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলির বাসিন্দাদের একাংশ জাল আধার কার্ড পেশ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চাইছে—এই অভিযোগে এদিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন ‘সনাতন সংসদ’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন মামলার অন্যতম আবেদনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আপত্তি জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবালও। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় ঠিকই। তবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অন্যতম পরিচয়পত্র। তাঁকে সমর্থন করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আধার জাল হচ্ছে কি না, সেটি বিচার করার এটা সময় নয়। কোনোভাবেই আধার কার্ড নথি হিসাবে বাতিল করা হচ্ছে না।’
বাংলায় বিচারকরা অবশ্য এদিন নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যা কাটেনি। ওটিপি দিয়ে অ্যাপে লগ-ইন করতে তাঁরা নাকাল হয়েছেন। ফলে প্রথমদিন বেশি নথি যাচাই সম্ভব হয়নি। রবিবার দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল কিন্তু লিখেছিলেন, লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি তথা আনম্যাপড ক্যাটিগরিতে সমস্যায় পড়া প্রায় ৫০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তিতে কমপক্ষে ৮০ দিন সময় লাগবে। এই চিঠি পেয়েই এদিন পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত আটটি আবেদনের ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, লোকবল বাড়াতে তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জুনিয়র এবং সিনিয়র সিভিল বিচারক বা সমমর্যাদার জুডিশিয়াল আধিকারিককে এই কাজে নিয়োগ করা যাবে। প্রয়োজন মনে করলে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সেখানকার জুডিশিয়াল অফিসার পাঠানোর অনুরোধও জানানো যাবে। ভিন রাজ্যের ওই আধিকারিকদের সাম্মানিক সহ যাবতীয় খরচ দেবে কমিশন। কমিশনের আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই খরচের বিষয় নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে দরাদরি করবেন না।’