নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১২ জুন, শুক্রবার। পাহাড়ি পাকদণ্ডী ধরে ইভনিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন অর্চনা কৈরালা। কিছুক্ষণ হাঁটার পর হঠাৎ বাঁ পায়ে যন্ত্রণা বোধ করেন এই অষ্টাদশী। তারপর কি হয়েছে সে কথাগুলি শুধু জানেন কালিম্পং বং বস্তির বাসিন্দারা, অর্চনার পরিবার এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, সিস্টাররা। তাঁর যন্ত্রণার কারণ, মারাত্মক বিষধর সাপের ছোবল। তার ফলে বেশ কিছুদিন সংঞ্জাহীন ছিলেন অর্চনা। সরু সুতোয় ঝুলছিল এই অষ্টাদশীর জীবন। তবে মৃত্যুকে হারিয়ে জয়ী হন প্রাণখোলা মেয়েটি। এই জীবন ফিরিয়ে দেওয়া লড়াইয়ের নেপথ্যে কালিম্পং জেলা হাসপাতালের হাইব্রিড সিসিইউ’য়ের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা।
রোগমুক্তির পর নিজের জীবনদানের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণের কলমে লেখা একটি ইংরেজি কবিতা উপহার দিয়ে গিয়েছেন হাসপাতালের হাইব্রিড সিসিইউ’য়ের কর্মী-চিকিৎসকদের। সে উপহার পেয়ে অভিভূত কর্মী-চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, ‘অনেকে বলেন, ডাক্তার হলি কেন? এত প্রতিবন্ধকতা, চাপ, পরিবারকে সময় দেওয়া যায় না। কিন্তু যখন কোনো রোগী মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরে আসেন। জীবন ফিরে পান। তখন সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই আমরা। অর্চনার মতো রোগীদের লেখা কবিতা বা একটা ধন্যবাদ, কিংবা একটা ফুল—এগুলিই বলে দেয়, কেন আমরা ডাক্তারি করে আজও তৃপ্তি পাই।’
কালিম্পং স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ১২ তারিখ অর্চনা কৈরালাকে কালিম্পং জেলা হাসপাতালে আনা হয়। তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। দ্রুত শুরু হয় যথোপযুক্ত চিকিৎসা। প্রয়োগ করা হয় সর্পাঘাতের চিকিৎসার আদর্শ ওষুধ নিওস্টিগমিন। ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দিতে থাকেন অর্চনা। ১৬ জুন ভেন্টিলেশন থেকে তাঁকে বের করা আনা হয়। ন’দিন হাসপাতালে থাকার পর ২০ জুন ছুটি পান। সুস্থ হয়ে ফিরে অর্চনার মুখে একটাই কথা, ‘এ জীবনে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের কথা ভুলব না।’