নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোট চুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে রাহুল গান্ধীর বিতর্কসভার চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ায় পালটা তির হাতড়াচ্ছে বিজেপি। মুখরক্ষার ঢাল হিসাবে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রসঙ্গ তুলেছেন অমিত শাহ। এতেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি সংসদের বিশেষ অধিবেশনের চাল চেলে দলীয় সাংসদদের সংখ্যাধিক্যে ভোটাভুটি করে বিরোধীদের অভিযোগ নস্যাৎ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার? সেই কারণেই কি বিরোধীরা সংসদে কোনো সময় ‘ওয়াক আউট’ করে বেরিয়ে যাচ্ছেন এমন ভিডিও আপলোড করছেন বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা? আগামী ১৮-১৯ নভেম্বর সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে, এমন গুঞ্জনও চলছে রাজধানীর রাজনৈতিক অলিন্দে।
দুদিন বিশেষ অধিবেশন ডেকে ভোট চুরির অভিযোগ সংক্রান্ত আলোচনার জল্পনা ছড়িয়েছে বিজেপি। মোদি-শাহরা মনে করছেন, সংসদে বিতর্ক হলে বাগ্মী প্রধানমন্ত্রীর সামনে টিকতে পারবেন না বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাই বিশেষ অধিবেশনের জল্পনা। যদিও তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের পালটা প্রশ্ন, ২০২৫ সাল থেকে যখন নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি করা হয়েছিল, তখন কেন রাজি হয়নি মোদি সরকার? কেন বলা হয়েছিল এসআইআর নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যায় না? তার মানে তো এটাই স্পষ্ট, জেন জি আর বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র আন্দোলনের জেরে হাওয়া বদল গয়া!
গত ১৩ আগস্ট শেষ হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। শুরু হয়েছিল ২০ জুলাই। কিন্তু বিষ্ময়ের বিষয়, সংসদের বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে গেলেও ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ তা সমাপ্ত হয়নি। সমাপ্তি ঘোষণা করেন দেশের রাষ্ট্রপতি। অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হওয়ার পর ৮৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রোরোগড না হওয়ায় বিশেষ অধিবেশনের জল্পনা বাড়ছে।
নভেম্বর মাস পড়ে গিয়েছে। সাধারণ নভেম্বরের শেষ, ডিসেম্বরের শুরুতে বসে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। সাধারণত দুটি অধিবেশনের মধ্যে মধ্যবর্তী সময়ের ফারাক থাকে তিন মাস। কিন্তু এখনও বাদল অধিবেশনই আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত না হওয়ায় কীকরে শীতকালীন অধিবেশন ডাকা হবে, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠছে। সংসদ সূত্রে শোনা যাচ্ছে, এবার শীতকালীন অধিবেশন নাম না দিয়ে বাদল অধিবেশন পার্ট-টু ডাকা হতে পারে।



