ব্রতীন দাস, মালদহ: গৌড় রাজ দরবারের বিখ্যাত লুকোচুরি দরজার রেপ্লিকা বসবে মালদহ মিউজিয়ামের সামনে। সেইসঙ্গে বসবে ফিরোজ মিনার ও গম্ভীরা শিল্পীর রেপ্লিকাও। একই সঙ্গে শশাঙ্কর আগে রাজ্যবর্ধনের সময়কাল থেকে শেরশাহের গৌড় দখল পর্যন্ত সময়কালের ইতিহাস মিউজিয়ামে তুলে ধরা হবে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে দু’টি পর্যায়ে ভাগ করা হচ্ছে ইতিহাসের ওই সময়কালকে। একটি পর্যায়ে রাজ্যবর্ধন থেকে শুরু করে শশাঙ্ক, পাল, সেন বংশ হয়ে বখতিয়ার খলজি পর্যন্ত ইতিহাস তুলে ধরার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অন্য একটি পর্যায়ে বখতিয়ার খলজি থেকে ইলিয়াস শাহী, হোসেন শাহী, হাবসি শাসন হয়ে শেরশাহের গৌড় দখল পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনার কথা ভাবা হয়েছে। মিউজিয়ামের দায়িত্বে থাকা মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার বলেন, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালের প্রচুর শিলালিপি ও বৌদ্ধমূর্তি রয়েছে মিউজিয়ামে। সময়কাল অনুযায়ী আমরা সেগুলিকে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সেইসঙ্গে গৌড়ের ইতিহাস লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালদহের কিছু ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের রেপ্লিকাও আমরা মিউজিয়ামের সামনে বসানোর কথা ভেবেছি। এর মধ্যে ফিরোজ মিনার, গৌড়ের লুকোচুরি দরজার কথা ভাবা হয়েছে। মালদহের সঙ্গে যেমন আম ও আমসত্ত্ব ওতোপ্রোতভাবে যুক্ত, তেমনই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জেলার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে গম্ভীরা লোকশিল্প। ফলে গম্ভীরা শিল্পের সঙ্গে পরিচয় করাতে মালদহ মিউজিয়ামে দেখানো হবে তথ্যচিত্র। ইতিমধ্যেই সেটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া গম্ভীরা শিল্পীদের পোশাক, গম্ভীরা মুখোশও সাজিয়ে রাখা হবে মিউজিয়ামে। ভিজিটররা সংগ্রহশালায় এসে যাতে মালদহের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, তার জন্য পুরনো দিনের ফটো, প্রাচীন পুঁথি ও বইপত্র থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে মালদহ মিউজিয়াম কার্যত অনাদরে পড়েছিল। বহু অমূল্য ঐতিহাসিক উপাদান থাকলেও তা চাক্ষুস করতে পা পড়ত না লোকজনের। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের তরফে মালদহ মিউজিয়ামকে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেওয়ালে ক্যালিগ্রাফি ও ছবির মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে মিউজিয়ামের। এবার মিউজিয়ামের সামনে রেপ্লিকা বসানোর পাশাপাশি লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোয়ের মাধ্যমে গৌড়ের ইতিহাস তুলে ধরার মধ্যদিয়ে ভিজিটরদের বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মিউজিয়ামের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রাজ্যবর্ধন ও হর্ষবর্ধনের সমসাময়িক বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক গৌড় রাজ্যে (বর্তমানে বাংলা ও বিহারের একাংশ) শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময় থেকে সুলতানি আমলের অন্যতম স্বর্ণযুগের হোসেন শাহী রাজবংশের শেষ সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করে ১৫৩৮ সালে শেরশাহের গৌড় দখল পর্যন্ত ইতিহাস লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সঙ্গেই বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ইতিহাসও জানার সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের।



