শ্যামল পাল, বাগডোগরা: এবার রাজস্থানী ঘরানার সাজে দুর্গা দেখা যাবে লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির মণ্ডপে। অন্যদিকে, শহরের ইতিকথা এবারের বিশেষ আকর্ষণ বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীনের। দুই পুরনো ক্লাবের পুজো ঘিরে জমজমাট এবার শিলগুড়ির উপকণ্ঠ বাগডোগরা।
লোয়ার বাগডোগরায় রাজস্থানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়েই তৈরি হচ্ছে পুজো মণ্ডপ। যেখানে রাজস্থানের ঘরবাড়ি থেকে সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে দুর্গাও থাকবে রাজস্থানী পোশাকে। এ বছর ৭১তম বর্ষে পড়ল এই পুজো। তৃতীয়াতে হবে আগমনী শোভাযাত্রা।
পুজো কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও আমাদের পুজো আশা করি দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। বাগডোগরা চিত্তরঞ্জন হাইস্কুলের মাঠে বানানো হচ্ছে মণ্ডপ। রাজস্থানের একটি গ্রামের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে থাকছে রাজস্থানের সংস্কৃতি মেনে উট, ঘরবাড়ি, বাদ্যযন্ত্র সহ বিভিন্ন সামগ্রী।
অন্যদিকে, গ্রামের মানুষ কাজের খোঁজে শহরে গিয়ে কী কী অসুবিধার মুখে পড়ে তা তুলে ধরা হচ্ছে হাটখোলা সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে। গ্রামগঞ্জ থেকে কাজের আশায় শহরে আসা সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম ও শহরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার গল্পই ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। এবার এই পুজোর ৭৫তম বর্ষ। পুজোর থিম শহরের ইতিকথা। শহরের উঁচু উঁচু অট্টালিকার পাশাপাশি মণ্ডপে দেখা যাবে ঠেলাগাড়িতে চপ বিক্রি, ফ্লাইওভারের নীচে সেলুনের মতো ছোটো ব্যবসা। জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে শহরে এসে কীভাবে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে মানুষ, সেই বাস্তব ছবিই তুলে ধরা হচ্ছে। সেইসঙ্গে শহরের মানুষের সঙ্গে গ্রামের মানুষের মানিয়ে নেওয়া এবং একই শহরে সহাবস্থানের বার্তাও থাকবে এই থিমে। বিশাল প্রতিমা রাখা হবে শিল্পীর তৈরি উড়ালপুলের নীচে।
পুজো কমিটির সভাপতি টুটুল দেব বলেন, গ্রামের মানুষকে নানান প্রতিকূলতার শিকার হতে হয় শহরে কাজের সন্ধানে গিয়ে। আমরা আশাবাদী, দর্শকদের মনজয় করবে আমাদের পুজো মণ্ডপ।