Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মিছিল যাচ্ছে’... কালীঘাটে পুজো দিতে আসা ভিড় হঠাৎই মমতামুখী

বুধবার সকালে ভবানীপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন ঘিরে জনপ্লাবন দেখা গেল।  তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তো ছিলেনই, সেই সঙ্গে দলীয় রাজনীতির বৃত্তের বাইরে থাকা এমন অসংখ্য সাধারণ মানুষ ছুটে এসেছিলেন স্রেফ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানে।

‘মিছিল যাচ্ছে’... কালীঘাটে পুজো দিতে আসা ভিড় হঠাৎই মমতামুখী
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিত্র ১: আগরপাড়ার হৈমন্তী ঘোষ এসেছিলেন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে। সাতসকালে পুজো দিয়ে জানতে পারলেন, কিছুক্ষণ পরেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাবেন ‘দিদি’। অগত্যা প্রসাদের প্যাকেট হাতে নিয়ে সটান চলে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলির মুখে। সেখানে তখনই ভিড় দানা বাঁধতে শুরু করেছে। 

Advertisement

চিত্র ২: কাজের সূত্রে নিয়মিত কালীঘাট চত্বরে আসেন দমদমের অনির্বাণ দেব, নরেন্দ্রপুরের সঞ্জীব ভট্টাচার্য। দুই সহকর্মী সেলসে কাজ করেন। খবরে দেখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার সকালে যাবেন মনোনয়নপত্র জমা দিতে। তাই কাজের ফাঁকে দুই বন্ধু হাজির কালীঘাটে।
বুধবার সকালে ভবানীপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন ঘিরে যে জনপ্লাবন দেখা গেল, উপরের দু’টি খণ্ডচিত্র সেখান থেকেই তুলে নেওয়া। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তো ছিলেনই, সেই সঙ্গে দলীয় রাজনীতির বৃত্তের বাইরে থাকা এমন অসংখ্য সাধারণ মানুষ ছুটে এসেছিলেন স্রেফ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানে। সেই ভিড়ে যেমন ছিলেন বহু বাঙালি, তেমনই অবাঙালি মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে হেঁটেই পৌঁছে গিয়েছেন মমতা। গোটা যাত্রাপথে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছে কাতারে কাতারে মানুষ। সেই ভিড়ে যেমন পাওয়া গিয়েছে বেসরকারি চাকুরে সুবীর বিশ্বাসকে, তেমনই দেখা মিলেছে কলেজ পড়ুয়া মৃন্ময়, শৌর্য, ঋতুপর্ণাদের। প্রিয় নেত্রীকে একবার চোখের দেখা দেখার আশায় জায়গায় জায়গায় ভিড়ের বাঁধ ভেঙেছে। কেউ মুঠোফোন খুলে বন্ধুকে ভিডিও কল করে মমতাকে দেখানোর চেষ্টা করছেন। কেউ ব্যস্ত থেকেছেন জনস্রোতকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সেলফি তুলতে। 
কালীঘাটে পুজো দিতে আসা হৈমন্তীদেবীর কথায়, ‘আমাদের মতো গৃহিণীদের কথা কে কবে ভেবেছে বলুন তো! দিদি কিন্তু ভেবেছেন। তাই দিদিই সেরা। উনি আমাদের আশা-ভরসা।’ হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের পড়ুয়া ঋতুপর্ণা রাহা বলছিলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক কিছু নিয়েই আমার ভিন্ন মত রয়েছে। অভয়া-কাণ্ডে আমিও রাস্তায় নেমেছিলাম। কিন্তু যেভাবে এসআইআরে লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল, এটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ হতে পারে না। এই মুহূর্তে বিজেপিকে আটকাতে গেলে ওঁকেই দরকার। এখানে একটা কাজে এসেছিলাম। যখন শুনলাম যে উনি বেরবেন, দাঁড়িয়ে গেলাম।’ 
কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে আলিপুরের গোপালনগর মোড়ের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত জনস্রোতে ভেসেছেন নেত্রী। গোটা রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। লোহার ব্যারিকেড, বাঁশের কাঠামো তৈরি করেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। মনোনয়নপত্র দাখিল করে যখন বাইরে এলেন মমতা, তখন রীতিমতো জনগর্জন শোনা গেল। স্লোগান, শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে এসে মমতার প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘জিতব আমরাই।’ তবে একই সঙ্গে এসআইআরে যে বিপুল সংখ্যক নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁর জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘আমি মর্মাহত, ব্যথিত’। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ