সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলা শহরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেলপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রবিবার থেকে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হল শহরে। পাশাপাশি এই দাবিতে ৮ ফেব্রুয়ারি ঘাঘরা হরতকিতলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলা শহরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেলপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রবিবার থেকে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হল শহরে। পাশাপাশি এই দাবিতে ৮ ফেব্রুয়ারি ঘাঘরা হরতকিতলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই দাবিতে আলিপুরদুয়ার নাগরিক কমিটি তৈরি হয়েছে। কমিটির ব্যানারে মিডিয়া, লিগাল সেল ও কোর কমিটি তৈরি হয়েছে। এদিন শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক নাগরিকের বাড়িতে কোর কমিটির মিটিং হয়। মিটিংয়ে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অলোক রায়কে।
নাগরিক কমিটির লিগাল সেলের ইনচার্জ সুমহান গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এই দাবিতে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি রেলের জোনাল ইউজার্স কমিটির মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে দেওয়া হবে। শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত এলাকাতেও আমাদের এই স্বাক্ষর অভিযান চলবে।
আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শহরের উপর দিয়ে যাওয়া ওই রেলপথ নিউ কোচবিহার হয়ে বামনহাট গিয়েছে। এই রেলপথ পুরসভার ১, ৭-১০ ও ১২ এই ছ’টি ওয়ার্ডকে মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। বাবুপাড়া, বড়বাজার বাটা মোড়, সুতলিপট্টি ও কোর্ট মোড় এলাকায় লেভেল ক্রসিং রয়েছে। ট্রেন চলার সময় গেট পড়লে শহরের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। ছ’টি ওয়ার্ড ও পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসার সময় হাসপাতালে যেতে বিপাকে পড়তে হয়। আবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সময় দমকলের ইঞ্জিনও রেল গেটে এসে অনেক সময় আটকে পড়ে।
সুমহানবাবু বলেন, আমাদের দাবি জংশন থেকে এই রেল ট্র্যাক নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হোক। যার দূরত্ব মাত্র দেড় কিমি। ফলে আমরা মনে করছি রেলপথটি ঘুরিয়ে দিলেই শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ বন্ধ হবে।
সম্প্রতি বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গা বলেছিলেন মানুষ চাইলে আলিপুরদুয়ার শহরের উপর দিয়ে যাওয়া এই রেলপথ তুলে দেওয়া হবে। তারপরই স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল দাবি তোলেন জংশন থেকে এই রেলপথ নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হোক। এই দাবিতে নাগরিক কমিটি তৈরি হয়। আলিপুরদুয়ার ডিভিশন রেলওয়ে ইউজার্স কমিটির দুই সদস্য প্রসেনজিৎ দত্ত চোধুরী ও কুশল চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে নাগরিক কমিটি ইতিমধ্যেই ডিআরএমকে এই দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে।