


সংবাদদাতা, বনগাঁ: চুইংগাম খাওয়া নিয়ে বিবাদ। স্কুল চত্বরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে ছুরি মারার অভিযোগ উঠল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের বিরুদ্ধে। তাকে সাহায্য করেছে এক সহপাঠীও। জখম অবস্থায় নবম শ্রেণির ছাত্রকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর পিঠে দুটি সেলাই পড়েছে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ নগেন্দ্রনাথ বিদ্যাপীঠে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত দুই ছাত্র। জখম অবস্থায় ছাত্রকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা জামা বদলে নতুন জামা পরিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্কুলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। স্কুলের মধ্যে কী করে অভিযুক্ত ছাত্র ছুরি পেল, কেন সে স্কুলে ছুরি এনেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁয়। তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্কুলে পরীক্ষা চলছিল। একই ঘরে নবম শ্রেণির বাংলা এবং অষ্টম শ্রেণির সংস্কৃত পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষক চুইংগাম খেতে নিষেধ করেছিলেন। অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের মুখে চুইংগাম ছিল। সেটি দেখে ফেলে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। সে বিষয়টি শিক্ষককে জানালে শিক্ষক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে বকুনি দেন। তাতেই রাগারাগি শুরু। এক ঘণ্টা আগে পরীক্ষা হয়ে গেলেও সহপাঠীকে নিয়ে স্কুল গেটের কাছে বসে ছিল অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্র। পরীক্ষা শেষে নবম শ্রেণির ওই ছাত্র গেটের কাছে আসতেই দুজন মিলে তাকে মারধর শুরু করে। মারামারি ঠেকাতে যায় নবম শ্রেণির অপর এক ছাত্র। তখনই ছুরির আঘাতে জখম হয় সে। অভিযোগ মারামারি ঠেকাতে গেলে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র তাকে জাপটে ধরে। অন্যজন ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে পিঠে বসিয়ে দেয়। এরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। নবম শ্রেণির ছাত্রটি জানায়, অভিযুক্ত ক্লাসে চুইংগাম খাচ্ছিল। আমি স্যারকে জানিয়েছিলাম। সেকারণে পরীক্ষা শেষে আমাকে মারছিল দুজন। সহপাঠী ঠেকাতে এলে, ওর পিঠে ছুরি মারে। জখম ছাত্রের মা চিন্তামণি দত্ত বলেন, আমি সঠিক বিচার চাই। স্কুলে কি করে ছুরি পেল সেটাও তদন্ত হোক। যদিও এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিয় ঘোষ ফোনে জানান, ‘স্কুলের কাজে বারাসতে ছিলাম। শুনেছি স্কুলের বাইরে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।’ তবে শিক্ষকদের দাবি, ছুরি মারার ঘটনা ঘটেনি।