অভিষেক পাল, বহরমপুর: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলেই মুর্শিদাবাদের অধিকাংশ তৃণমূল নেতাদের ভিড়। জোড়াফুল প্রতীকে জয়ী বিধায়কদের পাশাপাশি পরাজিতরাও সেখানে ভিড় করছেন। রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অপুর্ব সরকার থেকে বহরমপুরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে দেখা যাচ্ছে এই শিবিরে। বেলডাঙার প্রাক্তন বিধায়ক হাসানুজ্জামান, জেলা পরিষদ সদস্য রাজীব হোসেনরাও রয়েছেন বিদ্রোহী তৃণমূলের শিবিরে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই শিবিরের নতুন কর্মসমিতির সদস্য হলেন অপূর্ব সরকার। তাঁকে সামনে রেখেই তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি তৈরি হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঋতব্রত নতুন কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে বহরমপুর-মুর্শিদাবাদের একাধিক পরিচিত মুখকে বৈঠকে দেখা যাওয়ায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূলের নতুন কর্মসমিতির কোষাধ্যক্ষ তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের আরও যারা আসবেন তাঁরাও এই দলে স্বাগত। আমরাই তৃণমূল দলটাকে বাঁচানোর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
স্বভাবিকভাবে এই ঘোষণার পর অনেক নেতা ও কর্মীরা যোগাযোগ শুরু করছেন। ঘাসফুলের প্রতীকে বিজয়ী বিধায়করা প্রায় সকলেই ঋতব্রত শিবিরে রয়েছেন। শুধুমাত্র জলঙ্গির বাবর আলি কালীঘাট তণমূল তথা কুনাল ঘোষদের সঙ্গে রয়েছেন। বাকিরা আগেই শিবির বদল করেছেন। এখন পরাজিতরা ঋতব্রত শিবিরের দিকেই ঝুঁকছেন। তাঁদের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে একই দলে সহ্য করা অসম্ভব। তাই এই নতুন শিবিরে যোগদান। যেখানে ওর কোনো রাজত্ব চলবে না।
বিধানসভায় বাজেট পেশের দিনেই নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক বিধায়ক, নেতা ও কাউন্সিলার। বৈঠক থেকেই গঠিত হয় ২০ সদস্যের নতুন কর্মসমিতি এবং জাতীয় স্তরের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়। আর এই এই নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমেই এমনিতেই দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছে ঋতব্রতর গোষ্ঠী। চমক দিয়েই নতুন কর্মসমিতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার।
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলায় এই নেতাদের সামনে রেখেই ঘর গোছাতে নেমেছে ঋতব্রতদের তৃণমূল। বৈঠকে ছিলেন বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিফ হুইপ, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। নয়া কর্মসমিতির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বৈঠকে ছিলেন সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসও।
এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরে যত বিধায়কের সংখ্যা বাড়বে তত ভালো। আসল তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে মুখ খুলছে ওঁরাই। এটাই ভালো লাগছে। এতদিন যে অভিযোগ আমরা করেছি, আজ সেগুলি ওঁরা বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন।’