নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রদেশ কংগ্রেসের সংগঠন চাঙ্গা করে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অল আউট’ লড়াইয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে গেলেন রাহুল গান্ধীর দূত কে সি বেণুগোপাল। সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন ধরে কংগ্রেসের সংগঠন নিয়ে রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আলোচনায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এখন কংগ্রেসের সংগঠনকে শক্তিশালী করার সময়। কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে। তাই সর্বশক্তি দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ঘটনাচক্রে সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘গুন্ডাদমন বিল’ পাশ করিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই বেণুগোপাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিল আদতে বিরোধী মত ও সত্যকে চাপা দেওয়ার জন্য। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেস কর্মীরা যেন প্রয়োজনে জেলে যেতেও প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু কোনোভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই থেকে সরে আসা যাবে না।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে লড়াই করে জয়ী হয়েছে দু’টি কেন্দ্রে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এ রাজ্যে কংগ্রেসের সংগঠন আগের তুলনায় শক্তিশালী হচ্ছে ক্রমশ। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে দিশা দেখাতে লড়াইয়েপ বার্তাই দিয়ে গেলেন বেণুগোপাল। গত দু’দিন ধরে রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন তিনি। সংগঠন কীভাবে সাজাতে হবে, সে সম্পর্কে দিশা দিয়ে গিয়েছেন। যেখানে বেনুগোপাল উল্লেখ করেছেন, কর্মীদের শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে বেফাঁস মন্তব্য করা যাবে না। যা কিছু বলার, বলতে হবে দলের অভ্যন্তরে। এর প্রবীণ কংগ্রেস নেতার নির্দেশ, বিজেপির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লড়াইয়ের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস। এই অবস্থায় দলের সমস্ত কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ভয় পেয়ে পিছিয়ে এলে চলবে না। লড়াইয়ের রাস্তায় হেঁটে প্রয়োজনে জেলে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এদিকে, সাংবাদিক বৈঠকেও বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন বেণুগোপাল। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে হাইজ্যাক করছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সব এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। বাংলায় যে বিজেপির সরকার হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক সরকার নয়। কারণ, এখানে সঠিকভাবে নির্বাচন হয়নি। বিরোধী দল ভাঙার কাজেও কেন্দ্রের সরকারকে ব্যবহার করছে বিজেপি।’ তাঁর আরও বার্তা, ‘অন্য দল থেকে কেউ কংগ্রেসে আসতে চাইলে স্বাগত।’ নিজস্ব চিত্র