শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: শহর যত বড়ো হচ্ছে, ততই কমছে সবুজের পরিসর। মাথা তুলছে কংক্রিটের নির্মাণ। হারিয়ে যাচ্ছে গাছপালা, কমছে পাখিদের আশ্রয়। নাগরিক জীবনের এই বদলে যাওয়া ছবির উলটো দিকে দাঁড়িয়ে এবার বারাসতের বনমালীপুর মৈত্রী সংঘের দুর্গাপুজোর নিবেদন ‘প্রকৃতির কোলে উমা’।
পুজোর ৫৬তম বর্ষে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে চান উদ্যোক্তারা। উৎসবের আনন্দের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে সবুজ বাঁচানোর দায়বদ্ধতা জাগিয়ে তোলাটাই তাঁদের লক্ষ্য। দুর্গাপুজোর মণ্ডপ মানেই শুধু প্রতিমা দর্শন নয়। নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও সুযোগও বটে। সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে বনমালীপুর মৈত্রী সংঘ। সবুজ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে তারা বেছে নিয়েছে প্রকৃতিকেই। কংক্রিটের শহরের মাঝে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে এক টুকরো সবুজ পৃথিবী! যেখানে প্রকৃতিই যাবতীয় আয়োজনের প্রাণ। মণ্ডপে ঢুকলেই চোখে পড়বে প্রকাণ্ড এক গাছ। চারপাশে ছড়িয়ে থাকবে নানা প্রজাতির গাছপালা। কোথাও গাছের ডালে ঝুলবে মৌমাছির চাক, কোথাও দেখা মিলবে টুনটুনিসহ নানা পাখি ও কীটপতঙ্গের। প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দ, জীববৈচিত্র্যের নানা রং আর সবুজের নিবিড় উপস্থিতি মিলিয়ে তৈরি হবে এক অন্য জগৎ। সেই প্রকৃতির বুকেই বিরাজ করবেন উমা। আলো-আঁধারির কারসাজিতে মণ্ডপের পরিবেশকে জীবন্ত করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। কিন্তু এই প্রকৃতির প্রাণবন্ত ছবির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর উদ্বেগ! প্রয়োজনের তাগিদে হোক কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে, নির্বিচারে গাছ কাটা ও সবুজ ধ্বংস আজ পরিবেশের ভারসাম্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বারাসত শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়ছে কংক্রিটের নির্মাণ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে গাছপালা ও পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়। প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকা মৌমাছি, প্রজাপতি, পাখি, নানা প্রাণীর অস্তিত্ব ক্রমশ বিপন্ন হচ্ছে। অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে। গাছ শুধু ছায়া দেয় না, জীবজগতের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বনও। সেই কথাই মণ্ডপে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সম্পাদক সুমন মজুমদার বলেন, ‘আমরা এবার মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সবুজ বাঁচানোর বার্তা দিতে চাইছি। মণ্ডপে ঢুকলে দর্শনার্থীদের মনে হবে, তাঁরা যেন প্রকৃতির কোলে এসে পড়েছেন। প্রকৃতির নানা উপাদানকে সামনে রেখে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে, যা মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি ভাবতেও শেখাবে। আশা করছি, দর্শনার্থীরা মণ্ডপ দেখে মুগ্ধ হবেন এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তাটিও নিজেদের জীবনে গ্রহণ করবেন।’



