সাতাশে টালা প্রত্যয়ে সনাতন-অনির্বাণ যুগলবন্দি, তেলিপুকুরে ভবতোষ সুতার
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: বিসর্জন মিটতে না মিটতেই প্রস্তুতি শুরু বোধনের। চলতি বছর পুজোর আমেজের মধ্যেই আগামী বছর ঘিরে ভাবনা-চিন্তা-পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে শহরের প্রথম সারির পুজোগুলি।শিল্পীর সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিও সেরে ফেলেছেন একাধিক উদ্যোক্তা। 

Advertisement

যে খবর সামনে আসছে, তাতে পরের বছর বড়ো চমক দিতে চলেছে টালা পার্ক প্রত্যয়। সৌজন্যে, সনাতন-অনির্বাণ জুটি। অনির্বাণ প্যান্ডেলওয়ালা (দাস) ও সনাতন দিন্দা, বাংলার পুজোর এই দুই খ্যাতনামা শিল্পীকে একসঙ্গে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হাইপ পেতে চলেছে টালা প্রত্যয়। অন্যদিকে আগামী বছর নিজের সৃজনের ১০০টি দুর্গাপুজোর গণ্ডি পার করতে চলেছেন অনির্বাণ। শিল্পীর ব্যাখ্যায়, ‘সবাই মায়ের পায়ে ফুলের অঞ্জলি দেয়, আমি মা’কে থিমের অঞ্জলি দিয়েছি।কীভাবে এত বছর কেটে গেল মালুম হল না।’
ইতিমধ্যেইকমিটিগুলিকে কোন শিল্পীকে ‘বুক’ করল তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করে দিয়েছে। তালিকায় সবার আগে নাম টালা প্রত্যয়ের। কমিটির অন্যতম কর্তা অঞ্জন বসু বলেন, ‘দু’জনেই বড়ো ফিগার। ওঁরা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। আমরাও কলকাতাকে দারুণ কিছু দেখাতে মুখিয়ে রয়েছি। সাতাশের পুজোয় বড়ো চমক হতে চলেছে অনির্বাণ-সনাতনের যুগলবন্দি। দু’জনে মিলেই আলোচনা করে সবটা করবেন।’ দু’জনেই টালা প্রত্যয়ে এবার প্রথম পুজো করতে চলেছেন। সনাতন বলেন, ‘টালা প্রত্যয়ের ঠাকুর আমি করছি। প্যান্ডেল অনির্বাণ করছে। যদিও এটা আমাদের দ্বিতীয় যুগলবন্দি হতে চলেছে। আগেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। তবে এটা টালা প্রত্যয় বলেই সম্ভব হল।’ এর পাশাপাশি সাতাশেও নাকতলা উদয়ন সংঘ ও আলিপুর সর্বজনীনের পুজোর দায়িত্বে অনির্বাণ। সবমিলিয়ে ছ’টি পুজো করার কথা মেদিনীপুরের এই ভূমিপুত্রের। গুটি গুটি পায়ে যা ছাড়িয়ে যাবে একশোর গণ্ডি।অনির্বাণের কথায়, ‘ভয়ে ভয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। কী করলে ভালো কাজ হবে, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব, সেই সব মাথায় ঘুরত। তারপর কখন সংখ্যা বাড়তে থেকেছে, টিম বেড়েছে, খেয়ালই করা হয়নি। এখন গুনতেগিয়ে দেখা গেল ১০০টা পুজো হতে চলল। লোকজনও উত্তেজিত। একটু মাতামাতি। অনূভূতিটা অন্যরকম।’অন্যদিকে ১০০ তম বর্ষে পা দিতে চলেছে বকুলবাগান। ২০২৭ সালের পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সনাতন। আগামী বছর বেহালা ইয়ং মেনস অ্যাসোসিয়েশন ও সন্তোষপুর লেকপল্লির থিম সাজানোর দায়িত্বেও আছেন তিনি।
আহিরীটোলা সর্বজনীন সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, ‘সাতাশের পুজোয় কাঁপাতে মাঠ সুব্রত ও সম্রাট’। তেলিপুকুর ও নার্সারি বাগানের যুব সংঘও পোস্টার দিয়েছে, সাতাশের পুজোতেও ‘আবার ভব’, অর্থাৎ ভবতোষ সুতার। রাজডাঙা নব উদয় সংঘে আগামী বছর হ্যাটট্রিক করতে চলেছেন শিল্পী দেবাশিস বারুই। দমদম পার্ক তরুণ দলের ২০২৭ সালে পঞ্চাশ তম বর্ষে শিল্পী প্রদীপ দাস। সেক্রেটারি অনিল গিরি বলেন, পঞ্চাশ বছর শুধু একটি মাইলফলক নয়, এ আমাদের পথচলার উদযাপন। তাই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। যার অন্যতম প্রধান অধ্যায় হবে দুর্গোৎসব। সাম্প্রতিক সময়ের দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনায় অন্যতম প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় শিল্পী হিসাবেউঠে আসে প্রদীপ দাসের নাম। ২০২২ থেকে ২০২৪, তাঁর শিল্পভাবনায় দমদম তরুণ দল পেয়েছে সাফল্যের তিনটি স্মরণীয় বছর। সেই সৃজনশীলতা, সাফল্য আর পারস্পরিক আস্থাই সুবর্ণজয়ন্তী বছরে আবারও তাঁকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি দমদম পার্ক ভারত চক্রও পোস্টারে জানিয়েছে, তাঁদের বাজি মানস-সৈকত জুটি।