Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বচ্ছ ভাবমূর্তি উন্নয়ন হাতিয়ার, ডবল হ্যাটট্রিকের মুখে আশিস ‘স্যার’

‘স্যারে’র স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই দলকে অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে। বাম আমল ২০০১ সাল থেকে টানা রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়ে আসছেন তৃণমূলের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বচ্ছ ভাবমূর্তি  উন্নয়ন হাতিয়ার, ডবল হ্যাটট্রিকের মুখে আশিস ‘স্যার’
  • ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: ‘স্যারে’র স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই দলকে অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে। বাম আমল ২০০১ সাল থেকে টানা রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়ে আসছেন তৃণমূলের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদই তাঁকে আলাদা করেছে। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। তাঁর হাত ধরেই রামপুরহাট সহ তারাপীঠের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন, প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনসংযোগকে হাতিয়ার করে ষষ্ঠবারের জন্য এই কেন্দ্রে বাজিমাত করতে চাইছে শাসকদল। রবিবার নিজের বাড়ি ৫নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটপ্রচারে নামলেন আশিসবাবু। 

Advertisement

১৯৯৮সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন আশিসবাবু। তখন তিনি দলের এই জেলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি রামপুরহাট কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ২০০১সালে বামেদের একচ্ছত্র আধিপত্য সত্ত্বেও ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন। তারপর আর এই কেন্দ্রে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তৃণমূলকে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদই বারবার জয়ের পথ মসৃণ করেছে আশিসবাবুর। রামপুরহাটে মেডিক্যাল কলেজ, বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট, শহরের বাইপাস রাস্তা, এসবিএসটিসির বাস ডিপো, চাকপাড়ায় সরকারি বাস টার্মিনাস তৈরি হয়েছে। এছাড়া প্রচুর ঢালাই ও ম্যাস্টিক পিচের রাস্তা, হাইমাস্ট লাইট, শ্মশান ও কবরস্থানের উন্নয়ন, আদিবাসী এলাকায় পানীয় জল ও রাস্তা, সুফল বাংলার স্টল, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, কিষান মান্ডি, স্কুল বিল্ডিংগুলির সম্প্রসারণ সহ একাধিক উন্নয়ন এই বিধানসভার ভোল পাল্টে দিয়েছে। সেইসঙ্গে রামপুরহাট কলেজে রেগুলার এমএ পড়ার ব্যবস্থা, নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলগুলিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে উন্নীতকরণ করে গ্রামগঞ্জের শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছেন তিনি। তারাপীঠেরও আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, উন্নয়নের নিরিখে এবার জয়ী হবেন আশিসবাবু। 
রামপুরহাটের বাসিন্দা সফিকুল আলম, জয়দেব মণ্ডলরা বলেন, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত যে উন্নয়নের কথা ভাবা যেত না এখন সেইসব উন্নয়ন হয়েছে। তবে রামপুরহাট মেডিক্যালে ঩নিউরো বিভাগ ও এমআরআই পরিষেবা চালু ও একটি গার্লস কলেজ খুবই প্রয়োজন। সিপিএম নেতা সঞ্জীব বর্মণ বলেন, উন্নয়ন বলতে শাসকদলের নেতারা সর্বক্ষেত্রে তোলাবাজি করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বাদ দিয়ে সব হচ্ছে। ছোটখাট রোগেও রেফার করা হচ্ছে। দালালরাজ কায়েম হয়েছে।  
রবিবার রামপুরহাট শহরের ১১ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার সারেন বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, এখানে একশ্রেণির লোকের উন্নয়ন হয়েছে। এই তোষণ ও ঩বিভাজনের রাজনীতির জন্য মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তাঁর প্রতিশ্রুতি, জিতলে এই শহরের যানজটের সমাধানে ফ্লাইওভার করব। বেকারদের কর্মসংস্থান করব। এখানকার পাথর শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন ও কৃষকদের জন্য কাজ করব। বিকশিত রামপুরহাট বানাব। তবে ধ্রুববাবু যাই বলুক। দলের মধ্যেই প্রার্থীকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তবে প্রকাশ্যে এনিয়ে এখনই মুখ খুলছেন না কেউ। গতবার বামের ভোট রামে গিয়েছিল। এবার সেই ভোট ফেরানোই চ্যালেঞ্জ, পুরসভার কাউন্সিলার তথা সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিকের। অন্যদিকে ঘোষণা না করলেও এই কেন্দ্রে একজন আইনজীবীকে প্রার্থী করতে চলেছে কংগ্রেস। যদিও এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ আশিসবাবু। তিনি বলেন, এই সরকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে। মানুষও সরকারের পাশে রয়েছে। বিরোধীরা যতই হাওয়া তোলার চেষ্টা করুক, এখানে দাঁত ফোটাতে পারবে না।  রামপুরহাটে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তোলা নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ