নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: একেই কি বলে ঠেলার নাম বাবাজি? নাকি, কমিশনে কাঁপুনি? জেন-জির দল ককরোচ জনতা পার্টি, আর বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ জ্ঞানেশ কুমারকে হটানোর ডাক দিতেই এসআইআর বিক্ষোভে মলম লাগাতে নেমে পড়ল নির্বাচন কমিশন। পোশাকি নাম, ‘স্পেশাল ড্রাইভ’। এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং নতুন যাঁরা নাম তুলতে চান, প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি ফের যাবেন বিএলও’রা। আর বিতর্কের চাপে ব্যাকফুটে গিয়ে এবার যাবতীয় ক্ষমতা থাকবে ইআরও’দের হাতে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, কেরল সহ যে ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের কাজ শেষ, সেখানেই এই নাম তোলার ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ দেওয়া হচ্ছে। এসআইআরের আগে ভোটার তালিকায় কাদের নাম ছিল, আর সদ্য সমাপ্ত এসআইআরে কাদের নাম রয়েছে, দুই তালিকা মিলিয়েই বাদ পড়াদের চিহ্নিত করা হবে। ডুপ্লিকেট, প্রয়াত, স্থানান্তরিতরা অবশ্য বাদই থাকছেন।
ইতিমধ্যেই এই ২০টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, বুথ লেভেল অফিসাররা তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি যাবেন। নতুন ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ পূরণ করাবেন। এছাড়া ১ অক্টোবর তারিখের নিরিখে যাঁরা ১৮-ঊর্ধ্ব এবং ভোটার হতে ইচ্ছুক, তাঁদের নামও অন্তর্ভুক্ত করবেন। জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর—এই চারটি মাসের ১ তারিখ অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিক যাঁদের বয়স ১৮-ঊর্ধ্ব, তাঁরাই ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্য। আবেদন করতে স্রেফ বয়সের প্রমাণপত্র এবং বাড়ির ঠিকানার নথি জমা দিতে হবে। পরিবার বা আত্মীয়ের সঙ্গে ম্যাপিং সংক্রান্ত তথ্য লাগবে না।
যদিও পশ্চিমবঙ্গে ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন ভোটাররা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। এসআইআরে বাদ পড়া বাংলার ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮ জন নাগরিক ফের নিজেদের নাম তোলার জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। তা এখনও বিবেচনাধীন। তারই মধ্যে কমিশনের এই বিশেষ কর্মসূচি হলেও, সুযোগ থেকে বঞ্চিত ওই ২২ লক্ষ। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র আশিস গোয়েল জানিয়েছেন, ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের বিচার কমিশন করছে না। ওটা বিচারকদের বিষয়। ফলে ট্রাইবুনালে আবেদনকারীরা স্পেশাল ড্রাইভে অংশ নিতে পারবেন না।’
কেন পারবেন না?—প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং প্রদেশ এসআইআর সেলের চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু। ট্রাইবুনালে যাতে ভোটারদের নাম না ওঠে, কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলায় এমন ১৬ লক্ষ ১০ হাজার ৩১১টি আবেদন জমা পড়েছে বলে অভিযোগ। সেই আবেদন এখনই বাদ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। সব রাজ্যের সিইও’র সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন জানিয়েছে, বাদ পড়াদের নামের তালিকা স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টকেও দেবেন বিএলও’রা। আবেদনকারীদের ফর্ম-৬ সহ বিএলও’দের ফিল্ড ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা পড়বে ইআরও’র কাছে। তাঁরাই নেবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। গোটা প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগের অঙ্গ হিসাবে আশ্রয়স্থল, লেবার কলোনিতে থাকা নাগরিক এবং ভবঘুরে, প্রান্তিক স্তরের ভারতীয়দেরও ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বিশেষ শিবির করছে কমিশন। বাংলায় এই স্পেশাল ড্রাইভ কর্মসূচিকে কার্যকর করতে এদিনই সবক’টি জেলা পৃথকভাবে বৈঠক করেছে। সর্বত্রই ইআরও এবং এইআরও (বিডিও স্তরের অফিসার) ছিলেন। কীভাবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত করা হবে তার একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঠিক করেছে প্রতিটি জেলা।