


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৩ থেকে ২০২৫—তিন বছরে দেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলি থেকে ৮৮টি র্যাগিংয়ের অভিযোগ জমা পড়েছে। তথ্য জানার অধিকার আইনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। অভয়া-কাণ্ডের সময় ‘থ্রেট কালচার’-এর অভিযোগ নিয়ে রাজ্যজুড়ে শোরগোল ফেলার চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা। পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়ের বাতাবরণ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। আরটিআইতে অবশ্য উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। ২০২৩-এর ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫-এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্নাতকোত্তর অর্থাৎ এমডি-এমএস, ডিএম-এমসিএইচ স্তরে সবচেয়ে বেশি র্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছে ‘যোগীরাজ্য’ উত্তরপ্রদেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলি থেকে। তারপরই রয়েছে বিহার, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু। ছ’টির মধ্যে পাঁচটিই বিজেপিশাসিত রাজ্য! সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলি থেকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ সংখ্যায় অনেক কম।
সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠন ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতি ডাঃ লক্ষ মিত্তল বলেন, ‘আরটিআই থেকে আমরা এও জানতে পেরেছি, সিংহভাগ র্যাগিংয়ের অভিযোগে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।’ অভয়া আন্দোলনে জুনিয়র ডাক্তারদের অন্যতম শীর্ষনেতা ডাঃ অনিকেত মাহাত বলেন, ‘কেউ যতই অস্বীকার করুন না কেন, রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে থ্রেট কালচার আছে। তারপরও বলছি, অন্যান্য বহু রাজ্যের থেকে এখানে স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল পড়াশোনায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ওয়ার্ক কালচার অনেক ভালো।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঠিত স্বাস্থ্যদপ্তরের গ্রিভান্স রিড্রেসাল কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ সৌরভ দত্ত বলেন, ‘এটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার নয়। ওদের কালচার এখানে খাটে না, খাটবেও না।’ রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ মুকুল ভট্টাচার্য বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করছি, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পরিবেশ যাতে আরও ভালো করা যায়। র্যাগিংয়ের অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি তো আছেই।’
কিন্তু ইউজিসির কড়া নিয়ম, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি, এফআইআর করা, দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়া সহ হাজার নিয়মকানুন থাকলেও বাস্তবে কি অভিযোগকারীরা বিচার পাচ্ছেন? তথ্য জানার আইন বলছে সম্পূর্ণ অন্য কথা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই মোটামুটি তিন ধরনের ‘নিষ্পত্তি’ হচ্ছে! প্রথমত, জানানো হচ্ছে কোনও ধরনের র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেইনি! দ্বিতীয়ত, কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, করলে কী কী শাস্তি হতে পারে, এই জাতীয় একটি ‘নিরামিষ এডভাইজারি’ বের করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, কলেজ কর্তৃপক্ষকে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং তাঁদের পাঠ্যক্রম শেষ করতে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া। হাতেগোনা এক-দু’টি ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে সাসপেন্ড করা হয়েছে কলেজ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুনিয়র ডাক্তার বলেন, ‘অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রথম কয়েকদিন খুব তৎপরতা থাকে। তারপর যেই অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির মিটিং শুরু হয়, বোঝা যায়, পরিণতি কী হতে চলেছে!’