পুনে: তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র আদলে মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের আগে ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ চালু করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে বিজেপিও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে। কিন্তু মহারাষ্ট্রে ‘লড়কি বহিন যোজনা’ আর কতদিন চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। লড়কি বহিনের প্রকৃত উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ই-কেওয়াইসির নির্দেশিকা জারি করেছিল মহারাষ্ট্র সরকার। সেই প্রক্রিয়ার শেষে বাদ চলে গিয়েছে ৮০ লক্ষ উপভোক্তার নাম। নিয়ম মেনে তথ্য দিয়েও বহু মহিলার নাম তালিকায় নেই বলে অভিযোগ। প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণেও বহু মহিলা ই-কেওয়াইসি করাতে পারেননি। এর মধ্যেই মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়ে দিয়েছে, নাম যাচাইয়ের জন্য আর সময় দেওয়া হবে না। নতুন উপভোক্তাদের নামও আপাতত আর যুক্ত করা হবে না।
২০২৪ সালে লড়কি বহিন চালু করে মহাযুতি সরকার। এই প্রকল্পে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সেই সময় উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৬ লক্ষ। এরপর বেশ কয়েক দফা ঝাড়াই-বাছাই চলেছে। প্রতিবারই বহু নাম বাদ গিয়েছে। ই-কেআইসি প্রক্রিয়ার পর বর্তমানে ১ কোটি ৬৬ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে একাধিকবার ই-কেওয়াইসির জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়। আর সময় দেওয়া হবে না। এদিকে নাম বাদ পড়ায় বহু মহিলার অ্যাকাউন্টেই প্রকল্পের দেড় হাজার টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুনের বাসিন্দা মায়া ওয়াঘমারে যেমন বলেন, ‘আমি সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলাম। বলা হয়েছিল, সমস্ত কিছু আপডেট হয়ে যাবে। অথচ এখন দেখছি নামই বাদ দিয়ে দিয়েছে। সংসার চালানোর জন্য ওই টাকা খুবই প্রয়োজন।’ এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী জানিয়েছেন, অনেক উপভোক্তাই ভেবেছিলেন, সরকার আরও কিছুটা সময় দেবে। তাই তাঁরা ই-কেওয়াসিতে অংশ নেননি। এখন তাঁরা আর টাকা পাচ্ছেন না। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ মানতে চায়নি মহারাষ্ট্র সরকার। বিজেপির জোটসঙ্গী শিবসেনা (সিন্ধেপন্থী) নেতা সঞ্জয় নিরুপম জানিয়েছেন, বিরোধীরা লড়কি বহিন যোজনা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধেও এধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।