Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম ভ্রমণে অফবিটের হদিশ দেবেন ৮০ জন গাইড

পাহাড়, জঙ্গল ও নদীর অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে ঝাড়গ্রাম। এই অরণ্যভূমির এমন বহু অফবিট জায়গা আছে যেখানে আজও পর্যটকদের পা পড়েনি।

ঝাড়গ্রাম ভ্রমণে অফবিটের হদিশ দেবেন ৮০ জন গাইড
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: পাহাড়, জঙ্গল ও নদীর অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে ঝাড়গ্রাম। এই অরণ্যভূমির এমন বহু অফবিট জায়গা আছে যেখানে আজও পর্যটকদের পা পড়েনি। বহু ট্যুরিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এখন নতুন নতুন জায়গার খোঁজ করেন। স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডের সহযোগিতায় তাঁরা যাতে সেইসব জানা ও অজানা জায়গায় যেতে পারেন, তারজন্য বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্যটন দপ্তর। ঝাড়গ্ৰামে আসা পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য পর্যটন বিভাগের ওয়েবসাইট WBTOURISM.GOV.IN-এ ৮০জন ট্যুরিস্ট গাইডের নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক বিধান ঘোষ বলেন, এতে পর্যটকরা গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পৌঁছে যেতে পারবেন অজানা স্থানগুলিতে। ঝাড়গ্রাম জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। পরিচিত পর্যটনস্থলগুলিতে মূলত তাঁরা যান। চেনা পর্যটনস্থলের বাইরেও আছে বহু অফবিট জায়গা। স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডদের সহযোগিতায় পর্যটকদের এবার সেইসব স্থানে পৌঁছে যেতে পারবেন।

পর্যটনের মরশুমে বেলপাহাড়ীর ঘাগড়া ঝর্ণায় পর্যটকরা ভিড় জমান। কিন্তু নিকটবর্তী হাতি পাহাড়ের ঝর্ণায় এখনও পর্যটকদের সেভাবে পা পড়েনি। বেলপাহাড়ীর পাহাড়, জঙ্গলে ভ্রমণ করলেও ইন্দিরা চকে নীলকুঠির ভগ্ন চিমনি ঘর, নীলগাছ পচানোর চৌবাচ্চা সহ একাধিক স্থানে তেমনভাবে ভিড় হয় না। কেন্দুয়া, নেদাবহড়া-বিড়িহাঁড়ি, পাতানি, কেশররেখার গভীর ঝাড়গ্রামের জঙ্গল আজও রহস্যে মোড়া। নয়াগ্ৰাম ব্লকের সস্তনি গ্ৰামের সহস্র লিঙ্গ মন্দির, রোহিণীগড়ের শিবের সপ্তরথ দেউল, জামবনী ব্লকের আলমপুরের লক্ষ্মী জনার্দন মন্দির প্রাচীন প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। খুব অল্প সংখ্যক পর্যটক নিজের গাড়ি করে এইসব জায়গায় যান। স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডদের হাত ধরে এবার জেলার নানা অজানা অচেনা স্থান পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে। বেলপাহাড়ীর ট্যুরিস্ট গাইড মোহিনী মাহাত বলেন, ট্যুরিস্ট গাইডদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্ৰুপ চালু করা হয়েছে। গ্ৰুপটি এই মাস থেকে চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েবসাইটে নামের তালিকা দেওয়ায় বাইরের পর্যটকরা আমাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন। বেলপাহাড়ী সম্বন্ধে আমাদের জানতে চাইছেন। এমন জায়গার কথা বলছি যা তাঁরা আগে জানতেন না। সেখানে যাওয়ার জন্য অনেকে আগ্ৰহ প্রকাশ করছে। নতুন এই উদ্যোগে আরও বেশি পর্যটক পাব বলে আশা করছি। অপর এক ট্যুরিস্ট গাইড অনিমেষ মাহাত বলেন, পর্যটন দপ্তর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। স্থানীয় হোটেল, রিসর্ট, লজ, হোম-স্টের সঙ্গে মিলে আমরা কাজ করতাম। এবার পর্যটকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পর্যটকরা ফোনে নতুন নতুন জায়গা দেখার জন্য আগ্ৰহ প্রকাশ করছেন। অফবিট জায়গাগুলি জেলার পর্যটনের মানচিত্রে ঢুকে পড়বে বলে আশা করছি। ঝাড়গ্ৰাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, পর্যটন শিল্পের প্রসারে ট্যুরিস্ট গাইডদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জেলার ৮০ জন ট্যুরিস্ট গাইডের নাম ও ফোন নম্বর জেলার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। পর্যটন দপ্তরের এই উদ্যোগ কাজের সুযোগ মিলবে। সেইসঙ্গে জেলার পর্যটনের প্রসারও ঘটবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ