


নয়াদিল্লি ও মুম্বই: ক্ষমতায় এসে কৃষকদের জীবন বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! অন্নদাতাদের আয় দ্বিগুণ করা, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তার ‘স্বপ্ন’ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এই সব প্রতিশ্রুতি অধরাই থেকে গিয়েছে। এরইমধ্যে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য মহারাষ্ট্রে কৃষকদের সঙ্কটের চিত্র ফের বেআব্রু হয়ে গেল সরকারি পরিসংখ্যানেই। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই সেখানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৭৬৭ জন কৃষক। বিধানসভায় এই তথ্য জানিয়েছে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র মূলত বিদর্ভে কৃষকদের আত্মহত্যা সংক্রান্ত তথ্য লিখিত জানতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি। সেই প্রশ্নের জবাবে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকারের পুনর্বাসনমন্ত্রী মারকন্ড পাতিল জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে ৭৬৭ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে ৩৭৬ জনের পরিবার। ওই তিনমাসে শুধু পশ্চিম বিদর্ভের ২৫৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁদেরও অনেকে সরকারি সাহায্য পাননি। এই ধরনের মর্মান্তিক পরিসংখ্যানের পরও কৃষক আত্মহত্যার দায় নিতে নারাজ রাজ্য। তাদের পাল্টা সাফাই, আত্মহত্যা ঠেকাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে পিএম কিষান সম্মান প্রকল্পে ৬ হাজার টাকা ও রাজ্য সরকারের তরফে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত কৃষকদের কাউন্সিলিংয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও বেশি জমি সেচের অধীনে আনতেও সক্রিয় রাজ্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তারপরও কেন এই মৃত্যুমিছিল?
এরইমধ্যে বৃদ্ধ কৃষক দম্পতি অম্বাদাস পাওয়ার ও তাঁর স্ত্রী মুক্তাবাঈয়ের চাষের কাজের একটি ভিডিও কৃষকদের নিয়ে সরকারের দাবির ফানুস ফাটিয়ে দিয়েছে। ভিডিওতে সর্বশক্তি দিয়ে কাঠের লাঙল টানতে দেখা গিয়েছে মারাঠাওয়াড়ার লাতুর জেলার হাদোলদি গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছরের অম্বাদাসকে। পিছনে হাল ধরে রেখেছেন তাঁর স্ত্রী। জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরে এভাবেই চাষ করছেন তাঁরা। বিগত বছরগুলিতে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ফসল নষ্টের জেরে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এজন্য ঋণ নিতে হয়েছে ওই কৃষক পরিবারকে। তাঁদের ট্রাক্টর বা গবাদি পশু নেই। অর্থাভাবে কোনও শ্রমিককেও ডাকতে পারেননি তাঁরা। এই অবস্থায় অশক্ত শরীরে জমি কর্ষণের জন্য নিজেই হাল টানেন অম্বারাম। এই ঘটনায় রাজ্যের কৃষকদের করুণ দশারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।