Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহার জেলার ৭১১ প্লট শত্রু সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত, চলছে মিউটেশনের কাজ

৫৮ বছর পর চিহ্নিত ‘শত্রু সম্পত্তি’ বা এনিমি প্রপার্টি পুনরুদ্ধারে নামল সরকার

কোচবিহার জেলার ৭১১ প্লট শত্রু সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত, চলছে মিউটেশনের কাজ
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: ৫৮ বছর পর চিহ্নিত ‘শত্রু সম্পত্তি’ বা এনিমি প্রপার্টি পুনরুদ্ধারে নামল সরকার। কোচবিহার জেলার ১৮৪ একর শত্রু সম্পত্তি কাস্টোডিয়ান অব এনিমি প্রপার্টি ফর ইন্ডিয়া (সিইপিআই) নামে রেকর্ড করার কাজ শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সব থেকে বেশি এমন সম্পত্তি রয়েছে। এরপরেই আছে কোচবিহার জেলায়। প্রশাসনের একাংশের ধারণা, এই জমির দাম কয়েকশো কোটি টাকা। 

Advertisement

জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ভারত সরকারের নির্দেশে চিহ্নিত এনিমি প্রপার্টি ভারতের শত্রু সম্পত্তি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের নামে রেকর্ড করার কাজ চলছে। ৯০ শতাংশ সেই কাজ হয়ে গিয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে সব থেকে বেশ শত্রু সম্পত্তি মুর্শিদাবাদ জেলায় রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দু’হাজার একর। এরপরেই কোচবিহার জেলা। এখানে ১৮৪ একর শত্রু সম্পত্তি রয়েছে। আরএস (তৎকালীন ভূমি আইন অনুযায়ী) প্লট রয়েছে ৭১১টি। জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি শত্রু সম্পত্তি চিহ্নিত হয়েছে হলদিবাড়ি ব্লকে, ৫৪৪টি। দিনহাটা-২ ব্লকে ১১৪টি, সিতাইতে ২৬টি, দিনহাটা-১ ব্লকে ২৩টি, কোচবিহার-২ ব্লকে তিনটি এবং শীতলকুচিতে একটি এমন শত্রু সম্পত্তি চিহ্নিত হয়েছে। 
ভারত-চীন যুদ্ধের পর তৎকালীন কেন্দ্র সরকার ‘১৯৬২ প্রতিরক্ষা আইন’ নিয়ে আসে। ১৯৬৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘এনিমি প্রপার্টি অ্যাক্ট’ পাশ করে। বাংলাদেশ তখনও হয়নি। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান এবং চীন ছিল সেসময় ভারতে আক্রমণকারী দেশ। যুদ্ধের ফলে ভারতে বসবাসকারী পাকিস্তান এবং চিনের নাগরিকরা নিজের দেশে ফিরে যান। এদেশে তাঁদের সম্পত্তিগুলো শত্রু সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। সেই শত্রু সম্পত্তি  কেন্দ্র সরকারের অধীনস্থ সংস্থা সিইপিআই-এর নামে খাস করা হয়। 
রাজ্যে পালাবদলের পর শত্রু সম্পত্তি মিউটেশন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এই কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা রাত-দিন এক করে ৫৮ বছর আগের রেকর্ড খুঁজে বের করেন। এরপর হলদিবাড়ি, দিনহাটায় রীতিমতো শিবির করে তৎকালীন সময়ে চিহ্নিত শত্রু সম্পত্তি ফ্ল্যাগিং করে সিইপিআই-এর নামে মিউটেশন করছেন। ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমিদপ্তরের এক কর্তা জানান, কোনো প্লট ফ্ল্যাগিং করার অর্থ হল, ভবিষ্যতে ওই জমির রেকর্ড কোনো অবস্থাতেই বদলানো যাবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ