লখিসরাই: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে বিহারের মন্দিরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লখিসরাই জেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড়ে ঠাসা অশোক ধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অন্তত সাতজনের। জখম আরও অনেকে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। শ্রাবণের শেষ সোমবারে এমনিতেই মন্দিরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এরইমধ্যে শোনা যায় যে, এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। খবর রটে যায় যে মন্দির চত্বরে সক্রিয় বিদ্যুতের তার মাটিতে পড়ে রয়েছে। এর জেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ভক্তরা দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। তাতেই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। দ্রুত জখমদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। জখমদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের মর্মস্পর্শী পরিস্থিতির ভিডিয়ো সামনে এসেছে। সেখানে একের পর এক জখম ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে হাসপাতালের কর্মীদের। শোনা যাচ্ছে শুধুই আহতদের কান্না ও যন্ত্রণায় চিৎকার।
লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার বলেন, সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে পুণ্যার্থীবোঝাই দু’টি ট্রেন একসঙ্গে স্টেশনে পৌঁছায়। তার জেরেই অল্প সময়ের মধ্যে ওই মন্দির চত্বরে তীর্থযাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে। একসময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মন্দিরের বাইরের ব্যারিকেডও ভেঙে যায়। অনেকে মাটিতে পড়ে যান। এহেন পরিস্থিতির মধ্যেই খুঁটি ভেঙে বিদ্যুতের তার মন্দির চত্বরে পড়ে থাকার খবর রটে যায়। তারপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মহকুমা পুলিশ অফিসার শিবম কুমার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
বিহারের মতোই মধ্যপ্রদেশের নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে এদিন ভক্তদের ভিড়ে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ভিড়ের চাপে অন্তত তিন পুণ্যার্থী জখম হন। এদিন ছিল নাগপঞ্চমী তিথি। বছরে একবার ওইদিনেই ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খোলা হয়। এমনিতেই নির্দিষ্ট এই দিনে মন্দিরে বিপুল ভক্ত সমাগম হয়। তার সঙ্গে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ায় ভক্ত সমাগম কার্যত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অবশ্য মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।