ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের গ্রামে অজানা জন্তুর হানা। গত দু’সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ছ’জন গ্রামবাসীর। এরপর থেকে বারওয়ানি জেলার প্রত্যন্ত লিমবাই গ্রামে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্তদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিয়েও বাঁচানো যায়নি। পুলিস ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৫ মে গভীর রাতে গ্রামের ১৭ জন বাসিন্দাকে অজানা জন্তুটি কামড়ায়। রাত ১টা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে এই আক্রমণ ঘটে। এরপর তাঁদের হাসপাতাল থেকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু দু’সপ্তাহের মধ্যে ছ’জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা। সুনীল নামে ৪০ বছরের এক যুবককে ইন্দোরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সে জোর করে বাড়ি ফিরে আসার পথে মারা যায়। আক্রান্ত এক গ্রামবাসী বলেন, জন্তুটি দেখতে অনেকটাই কুকুরের মতো। কোনওরকম গর্জন ছাড়াই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপরই জন্তুটি জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যায়। শুধু গ্রামবাসীরা নন, তিনটি গৃহপালিত পশুও জন্তুটির আক্রমণে মারা গিয়েছে। হামলার শিকার একজন জানিয়েছেন, প্রাণীটি ডাকেনি, গর্জনও করেনি। ছায়ার মতো এসেই যেন মিলিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের হঠাত্ই স্নায়ুর সমস্যা শুরু হয়েছিল। এছাড়া প্রাণীটির কামড়ের চিহ্নও পরিচিত নয়। বনকর্মীরা মনে করছেন, হায়না জাতীয় কোনও প্রাণী গ্রামে ঢুকে বাসিন্দাদের আক্রমণ করেছে। এদিকে জন্তুটি ধরার জন্য ফাঁদ পেতেছেন বনকর্মীরা। সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলিতে জলাতঙ্কের টিকার মজুত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বারওয়ানির জেলা শাসক সোমবার লিম্বাই গ্রাম পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল টিম বাকি ১১ জনকে পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু টিমের সদস্যরাও এমন অদ্ভুত কামড়ের দাগ আগে দেখেননি। আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি।’



