নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মুর্শিদাবাদের কর্ণসুর্বণে ট্রেন ধাক্কায় চার শিশুর মৃত্যুর দিনই আসানসোলে বেপরোয়া মিনিবাসের ধাক্কা স্কুলের পুলকারকে। তারে পাঁচ পড়ুয়া জখম হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে এক পথচারীর। শুক্রবার আসানসোলের মুর্গাসোলের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবক মহলে। জানা গিয়েছে, ঘাতক বাসটি পথচারীকে পিষে দিয়ে পুলকারে ধাক্কা মেরেছিল। তাই কিছুটা হলেও গতি কম ছিল। তাতেও অবশ্য পাঁচজন শিশুকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। তা না হলে আরও বড় বিপদ হতো বলে এলাকাবাসীর দাবি।
বাসিন্দারা জানিয়েছে, আসানসোল মুর্গাসোলে জিটি রোডের উপর অন্য দিনের মতোই সকালে শিশুদের গাড়িতে তুলছিলেন পুরকার চালক। সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ আসানসোল থেকে কালিপাহাড়ী অভিমুখে যাওয়া একটি মিনিবাস পথচারী জয়দেব মণ্ডলকে (৬১) ধাক্কা মারে। তাঁকে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পুলকারটিকে ধাক্কা মারে। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুদে পড়ুয়া ভর্তি পুলকারের শিশুদের আর্তনাদে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামে। জয়দেববাবু স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করেন। তাঁকে ঘাতক বাস থেকে টেনে বের করতে হয়। শিশুদের ও জয়দেববাবুকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক জয়দেব মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। পাঁচ শিশুর চিকিৎসা শুরু হয়। দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও ১০ বছর বয়সের গিরিশা বার্নওয়ালের উপরের ঠোট কেটে গিয়েছে। ন’ বছরের অদ্রিশা খানের দাঁত ভেঙে গিয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে রুনি কুমারীরও। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, ঘাতক বাসটি বাজেয়াপ্ত করা গেলেও চালক পলাতক। কিন্তু কীভাবে ঘটল এমন দুর্ঘটনা? প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্রেক ফেল করায় বাসটি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে রুটের বাসের ফিটনেস চেকিংয়ে কি কোনো গাফিলতি রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে বলে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন।