Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬

৫টি আঞ্চলিক হাব, জোর মেডিকেল টুরিজমে

৫টি আঞ্চলিক হাব, জোর মেডিকেল টুরিজমে
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০২
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে এবার ১০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়াল কেন্দ্র। রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে আগামী অর্থবর্ষের জন্য ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। বর্তমানে মেডিকেল ট্যুরিজম জনপ্রিয় হয়েছে। ভারত যাতে মেডিকেল ট্যুরিজম ক্ষেত্রে অন্যতম গন্তব্য হয়ে ওঠে, তার জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক স্তরে পাঁচটি মেডিকেল হাব তৈরির লক্ষমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্মলার ঘোষণা, বেসরকারি সহায়তায় রাজ্যগুলি হাব তৈরি করতে পারবে। এরজন্য রাজ্যগুলিকে পরিকাঠামো তৈরির জন্য অর্থ দেওয়া হবে। এখানে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং গবেষণার কাজ হবে একসঙ্গে।

Advertisement

এছাড়াও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বায়োফার্মা শক্তি কর্মসূচিতে। আগামী পাঁচ বছরে এই অর্থ বরাদ্দ করা হবে। নির্মলার ঘোষণা, ওষুধ উৎপাদনের ইকোসিস্টেম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিবে এই কর্মসূচি। এই অর্থে তিনটি নতুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিউটিকাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (নিপার) কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পানিহাটি সহ সাতটি নিপারের আধুনিকীকরণ করা হবে। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য হাজারটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মতে, এর ফলে ভারতীয় ওষুধের গুণমান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ট্রায়ালের কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে।

এদিন আয়ুর্বেদ চিকিৎসার উপরও বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্মলা। ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসার গবেষণার জন্য তিনটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। করোনার সময় থেকেই বিশ্ববাসীর কাছে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা জনপ্রিয় হয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে এই চিকিৎসা পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গুজরাতের জামনগরে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন ট্র্যাডিশনাল মেডিশিন সেন্টারে আরও উন্নত গবেষণা হবে। আয়ুষ মন্ত্রকের জন্য ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই মন্ত্রককে ৪ হাজার ৪০৮ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। এই মন্ত্রকের অধীনেই রয়েছে, আয়ুর্বেদ, যোগা, ইউনানি, সিদ্ধা এবং হোমিওপ্যাথি।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার খোলনলচে বদলেরও বার্তা রয়েছে বাজেটে। বলা হয়েছে, অ্যালায়েড হেল্থকেয়ার প্রফেশনালস (এএইচপি) প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সময়োপযোগী করা হবে। এই প্রথম এএইচপি ক্ষেত্রে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারি স্তরে আরও এএইচপি তৈরি করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে নতুন কেন্দ্রগুলি থেকে আরও ১০ হাজার এএইচপি পেশাদার তৈরি হবে। অপটোমেট্রি, রেডিওলজি, অ্যানাস্থেশিয়া, ওটি প্রযুক্তি, অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি অ্যান্ড বিহেভিরাল হেল্থের মতো ১০টি ক্ষেত্রকে এএইচপির আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া ওয়েলনেস, যোগার মতো পরিষেবা দিতে দেড়লক্ষ কেয়ারগিভার্স তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল হেল্থ মিশনের বরাদ্দ ৩৭ হাজার ১০০ কোটি থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৯ হাজার ৩৯০ কোটি। আয়ুষ্মান ভারতের বরাদ্দ ৮ হাজার ৯৯৫ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ