নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রামমন্দিরে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষ টাকা ‘চুরি’! অযোধ্যায় ট্রাস্ট-বিতর্কের আগুনে এবার নতুন করে ঘি ঢালল কংগ্রেস। সরাসরি প্রশ্ন তুলল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থান নিয়েও। কারণ, দেশের সীমা ছাড়িয়ে রামমন্দির বিতর্কের আঁচ ছড়িয়ে পড়লেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে এ পর্যন্ত একটি শব্দও শোনা যায়নি। অথচ, মন্দিরের ভিত পুজো থেকে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, ধ্বজা স্থাপন, ট্রাস্ট গঠন, তার সদস্য নির্বাচন— সবই নরেন্দ্র মোদি নিজের হাতে করেছেন বলে মঙ্গলবার তোপ দাগতে ছাড়েনি কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, ৪০ দিনে ৭০ বার চুরি হয়েছে। এত বড়ো তছরুপ। তোলপাড় চলছে সর্বত্র। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চুপ। কেন ‘মৌন’ মোদি? অযোধ্যা রামমন্দিরের লুটের অংশ লখনউ থেকে দিল্লি হয়ে নাগপুর (আরএসএসের সদর দপ্তর) পৌঁছছে বলেও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনেত।
মঙ্গলবার এআইসিসিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মহীপাল নামে এক ব্যক্তি প্রথম গড়বড় দেখে সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, প্রতিদিন গড়ে ৫ লক্ষ টাকা চুরি হচ্ছে। কিন্তু সতর্ক না হয়ে, তদন্ত না করে তাঁকেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ।’ একা মহীপাল নন। ‘ধর্মভীরু’ আরও দু’জন সতর্ক করেছিলেন। তাঁদেরও চাকরি খোয়া গিয়েছে বলেই দাবি করেছে কংগ্রেস। সুপ্রিয়ার প্রশ্ন, কেন, কাকে এবং কী গোপন করার চেষ্টা চলছিল?’ তাঁর কটাক্ষ, ‘নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি তো নিজেদের হিন্দুত্বের সবচেয়ে বড়ো ঠিকাদার বলে দাবি করে। রামমন্দিরের যাবতীয় কৃতিত্ব যদি তিনি নিজে নিয়ে থাকেন, তাহলে দুর্নীতির দায় কেন এড়াবেন? কেন এতো কিছু ঘটে যাওয়ার পরও তিনি কোনো কথা বলছেন না? বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন?’ সুপ্রিয়ার হিসাব, ‘সিন্ধি সমাজ বলছে, তাদের ২০০ কিলো রুপোর কোনো রসিদ মেলেনি। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, তাঁদের দেওয়া সোনা কোথায় গেল? করসেবকদের সওয়াল, ১২৫০টা সোনারুপোর রামশিলাই বা কোথায়? এমনকী হনুমানজির মূর্তি, রামলালার পালঙ্কও গায়েব। ভক্তরা সবই তুলে দিয়েছিল চম্পত রাইয়ের হাতে। তাহলে কেন তাঁর নামে এফআইআর হবে না? কেন তাঁকে বাঁচানো হচ্ছে?’ এদিনই অবশ্য জেরার মুখে পড়েছেন চম্পত। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ২৭ জুন ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তারপর এই প্রথম তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হল। জিজ্ঞাসাবাদ চলল দু’ঘণ্টার উপর। চম্পতের পাশাপাশি প্রাক্তন ট্রাস্টি অনীল মিশ্রকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অযোধ্যার একটি ব্যাংকে গিয়ে অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, প্রণামী চুরির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চম্পত। উলটে বলেছেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুপ্রিয়ার দাবি, চম্পত রাইয়ের পরিচিত লবকুশ মিশ্রকে ভগবানের ভেট গোনার কাজে নিযুক্ত করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে ১২ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। গোবরের মধ্যে টাকা লুকিয়ে রেখেছিল। কিছুই জানত না কেউ? কোটি কোটি টাকা লুট। অথচ স্রেফ কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করে রাঘব বোয়ালদের বাঁচানো হচ্ছে। সুপ্রিয়ার সওয়াল, ‘এ তো স্রেফ সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়া ছবির ভিত্তিতে ৪০ দিনে ৭০ চুরির বিষয়টা সামনে এসেছে। কিন্তু যা আসেনি তার হিসাব কোথায়? ভূমিপুজো থেকে আজ পর্যন্ত গত সাড়ে পাঁচ বছরে কী পরিমাণ লুট হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।’ কংগ্রেসের দাবি, সিটের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতির নজরদারিতেই করতে হবে দুর্নীতির তদন্ত। কারণ, এটা চুরি নয়, পাপ।
যোগী সরকারকে এই ইস্যুতে খোঁচা দিতে ছাড়েননি মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও। বলেছেন, ‘ওদের ট্রাস্টে একজন মুসলিম সদস্য রাখা উচিত ছিল। তাহলে এনকাউন্টারে তাকে হত্যা করে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে পারত। সেখানেই মামলা মিটমাট হয়ে যেত। বর্তমানে অভিযুক্তরা দিব্যি মজায় রয়েছেন।’