নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ না করার জন্য খাদ্যে ভরতুকি খাতে প্রাপ্য প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা আটকে রয়েছে রাজ্য সরকারের। পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটনাটি ঘটেছিল বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকদের বিনা পয়সায় চাল-গম দিতে যে ভরতুকি দেওয়া হয়, তার পুরোটাই দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় থাকা এসপিএইচ এবং এসপিএইচএইচ শ্রেণির রেশন গ্রাহকদের জন্য মাথাপিছু মাসে ৫ কেজি করে চাল-গম বরাদ্দ আছে।
কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে চাল-গমের পরিমাণে পরিবর্তন আনে। ৩ কেজি করে চাল ও ২ কেজি করে গম দেওয়া হয় শুরু হয়। কয়েক বছর ধরে এটা চলার পর পরিমাণের হার ফের পরিবর্তন করা হয়। ৩ কেজি করে গম ও ২ কেজি করে চাল দেওয়া ফের চালু করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে এটা চালু করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার তা না করে ৩ কেজি চাল ও ২ কেজি করে গম দেওয়া চালিয়ে যেতে থাকে। ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এটা চলে। তারপর কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী চাল-গম দেওয়া শুরু হয়। ওই কয়েক মাসে কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর না করার জন্য ভরতুকি খাতের ৪৭৭ কোটি টাকা আটকে গিয়েছে রাজ্যের। প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে ৪০ টাকার বেশি খরচ হয় সরকারের। সেখানে সমপরিমাণ গম উৎপাদনে খরচ পড়ে ২৮ টাকা। চাল দিতে তুলনামূলকভাবে সরকারের বেশি খরচ হয়। এক সময় গমের মজুত কিছুটা কম থাকার জন্য পশ্চিমবঙ্গসহ কিছু রাজ্যে চালের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি ঠিকঠাক হওয়ায় চালের বরাদ্দ আগের মতো করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে সব রেশন গ্রাহককে যে চাল সরবরাহ করা হয়, তা রাজ্য সরকার নিজে ধান কিনে তৈরি করে। চালের জন্য যে খরচ হয়, তা পরে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে মিটিয়ে দেয়। চালের বকেয়া টাকার ওই অংশ যাতে পাওয়া যায়, তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের খাদ্যদপ্তর।