নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভূ-ভারতে এমন ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়েছে কি না জানা নেই। এই কম্পিটিশনে খেলতে হলে থলথলে, নধর, ফুটবলের মতো একটা ভুঁড়ি লাগবে। নইলে নাকচ। নিউ বারাকপুরের লেনিনগড়ে এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যাঁর ভুঁড়ি আছে তিনি নাম দিতে পারেন। নিউ বারাকপুরের চাঁদপুর-লেলিনগড় শিবমন্দির পুজো কমিটি ভুঁড়িওয়ালা খেলোয়ারদের নিয়ে এরকম একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
নাম, গণপতি ফুটবল উৎসব। মূলত চল্লিশোর্ধ্ব এবং ভুঁড়িওয়ালা খেলোয়াররাই নাম দেওয়ার যোগ্য। ১৯৯৮ সালে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। ২০০৮ সাল পর্যন্ত চলেছিল। তারপর যায় বন্ধ হয়ে। চলতি বছর নতুন কমিটি ফের কম্পিটিশন শুরুর পরিকল্পনা করেছে। ২৩ আগস্ট, রবিবার বিকেলে লেনিনগড় ময়দানে ভুঁড়ি ফুটবল উৎসব হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই ফর্ম ফিলাপ শুরু করেছে। ফর্ম ভরার মূল শর্ত-বয়স কমকরে ৪০, ভুঁড়ির মাপ কমকরে ৪২। খেলার দিন শুধু চোখে নয়, ফিতে দিয়ে মাপা হবে বপু। যাঁর ভুঁড়ির বহর বেশি সেই খেলোয়াড়ই পাবেন সুযোগ। কমিটির ভাষায় তাঁরা হলেন গণপতি ফুটবলার। অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ক্লাবের সভাপতি তপনকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বাঙালির ফুটবল প্রেম ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’ খেলার শুরুতে হবে গণেশের মূর্তি নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। গণেশ যেমন শুঁড়ের জন্য বিখ্যাত তেমনই তাঁর বিশাল বপুর জন্যও বিখ্যাত। তিনি ভুঁড়ি বাগিয়ে বসে থাকেন, যেমন অফিস থেকে ফিরে খালি গায়ে খাটে বসে চা-মুড়ি খান অধিকাংশ বাঙালি মধ্যবয়স্ক। মূলত সেরকম চল্লিশোর্ধ্ব মধ্যবয়স্কদের নিয়েই হচ্ছে গণপতি ফুটবল উৎসব। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দল পাবে সুদৃশ্য ট্রফি। শংসাপত্র। সর্বোচ্চ ভুঁড়িওয়ালা খোলোয়ার পাবেন আকর্ষণীয় পুরস্কার। মাঠে উপস্থিত থাকবেন খ্যাতনামা ফুটবলাররা। শোনা গিয়েছে, খেলার টানে স্থানীয় গণপতিরা প্র্যাকটিস শুরু করেছেন। তপনবাবু বলেন, ‘আমাদের বাবা-কাকারা এই খেলা শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আবার নতুন করে চালু করা হবে। আগামী বছর টিমের সংখ্যা বাড়িয়ে চার হবে। জয়ী-পরাজিত দল, সেরা খেলোয়াড় ও ভুঁড়ির জন্য পুরস্কার রাখা হয়েছে। সেরা দর্শকের জন্যও রয়েছে পুরস্কার। খেলার পরদিনও গণপতি খেলোয়াড়দের জন্য ভূরিভোজের আয়োজন হবে।’ ভুঁড়ি নিয়ে যাঁদের পরিবারের গঞ্জনা সইতে হয়, ভুঁড়ির জন্য যাঁদের ডাক্তারের উপদেশের চোটে কান ঝালাপালা হয়, ভুঁড়ির জন্য যাঁদের সামান্য লুচি-মাংস খেতে গেলেও চারটে কথা শুনতে হয়, তাঁদেরই তো দিন ২৩ আগস্ট। সেদিন তিনি স্রেফ ভুঁড়িওয়ালা কোনও কাকু-দাদা নন, সেদিন তিনি গণপতি ফুটবলার। -নিজস্ব চিত্র