Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাইনে ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা পান পালপাড়া কলেজের ৪ স্থায়ী কর্মী

পূর্ব মেদিনীপুরের পালপাড়া কলেজের ৪ স্থায়ী কর্মী মাইনের বাইরে ২৬,৪০০ টাকা পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

মাইনে ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা পান পালপাড়া কলেজের ৪ স্থায়ী কর্মী
  • ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: কলেজে বাড়তি কাজের চাপ নিতে হয়। সেকারণে মাইনে ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা পাচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া কলেজের চারজন স্থায়ী কর্মী। তাঁদের পিছনে প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ২৬হাজার ৪০০টাকা। স্থায়ী কর্মীদের মাইনে ছাড়াও এভাবে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে। এপ্রসঙ্গে কলেজের প্রশাসক তথা পাবলিক ইনস্ট্রাকশন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কেন মাইনের অতিরিক্ত পেমেন্ট হয়, তা খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ্তকুমার মিশ্র বলেন, অশিক্ষক কর্মীর ২৭টি পদ খালি আছে। আপার ডিভিশন ক্লার্ক পদে চারটি, গ্রুপ-সি পাঁচটি, গ্রুপ-ডি ১৮টি পদ শূন্য। এই অবস্থায় কয়েকজনকে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিতে হয়। তাই তাঁদের কলেজের পক্ষ থেকে সাম্মানিক দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া কলেজে চারজন স্থায়ী কর্মী বিকাশচন্দ্র ঘোড়ই, দেবাশিস মণ্ডল, বিশ্বজিৎ সাউ ও শুকদেব শীট অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য এই টাকা পান। তাঁরা প্রত্যেকেই স্থায়ী কর্মী। সরকারের কোষাগার থেকে মাসমাইনে পান। তা সত্ত্বেও প্রতি মাসে কলেজের তহবিল থেকে তাঁদের ২৬হাজার ৪০০টাকা দেওয়া হয়। তারমধ্যে একজন ১২হাজার ৮০০টাকা পান। বাকি তিনি জনের মধ্যে ১৩হাজার ৬০০টাকা ভাগ হয়। প্রতি বছর কলেজ কর্তৃপক্ষকে এভাবে প্রায় তিন লক্ষ ১৭ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে ওই কলেজে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা সাতজন। অস্থায়ী কর্মী আছেন ১০জন। কয়েকজন কর্মীকে অতিরিক্ত সাম্মানিক দেওয়ায় কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাঁরা জানান, ২৬ হাজার টাকায় অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে কাজ করানো যেত। তা না করে স্থায়ী কর্মীদের যেভাবে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়মবিরুদ্ধ। 
জানা গিয়েছে, স্থায়ী কর্মীরা অতিরিক্ত টাকার জন্য একসময় অধ্যক্ষের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়েছিলেন। প্রিন্সিপাল নিজে হাউস রেন্ট নিলেও কলেজ বিল্ডিংয়ে তাঁর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি সেখানে থাকেন। তিনি এই সুবিধা নিলে কেন কর্মীরা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না, এই প্রশ্ন ওঠে। এনিয়ে যুক্তিতর্ক শেষে চার কর্মীকে প্রতি মাসে ২৬হাজার ৪০০টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই প্রক্রিয়া কতটা সঠিক সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছেন কলেজের প্রশাসক। হাউস রেন্ট প্রসঙ্গে প্রিন্সিপাল বলেন, কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করি না। তবে যাতায়াতের সমস্যা হলে মাঝেমধ্যে কলেজে থাকি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ