Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাইবুনালে ৩৮ লক্ষ, কমিশন চুপ কেন? প্রশ্ন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের

এসআইআর ইস্যুতে মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর আরটিআই প্রশ্নে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।

ট্রাইবুনালে ৩৮ লক্ষ, কমিশন চুপ কেন? প্রশ্ন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এসআইআর ইস্যুতে মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর আরটিআই প্রশ্নে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। আরটিআই জবাবে জানা গিয়েছে, ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬২০ জন। গত ৭ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৭৫ হাজার ৪৪৩ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। বাদ গিয়েছে ৭ হাজার ৩৩৯। অথচ আগে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, মাত্র সাত লক্ষ নাম বাদ পড়া ব্যক্তি ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। এই তথ্য হাতিয়ার করে এসআইআর মামলায় ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেনদের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ বলেন, তার মানে তো এই ৩১ লক্ষের নাম বাদ দেওয়ার জন্য‌ আ঩বেদন করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন কমিশন স্পষ্ট করে এ ব্যাপারে কিছু বলছে না?

Advertisement

গত ১১ আগস্টের পর মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনের মুখে ‘রা’ নেই। ট্রাইবুনালে কতজন আবেদন করেছেন, কত নিষ্পত্তি হয়েছে, কতজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কতজন বাদ থেকেই গেলেন, কতদিনে ট্রাইবুনালের কাজ শেষ হবে...সুপ্রিম কোর্টের এহেন এক ঝাঁক প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাবই দিতে পারল না। যা দেখে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর মন্তব্য, ‘আগামী লোকসভা ভোটের আগে অন্তত নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া উচিত।’ কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বললেন, আমার কাছে তথ্য নেই। ১০ দিন সময় দিন। ট্রাইবুনালের সঙ্গে কমিশন দুবার বৈঠক করেছে। ফের আগামী সোমবার বৈঠক করবে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রশ্নগুলির জবাব লিখিতভাবে জমা দিন। 
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে এদিন আবেদনকারীদের পক্ষে সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যদের মতো আইনজীবীরাও। বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নাম বাদ দিয়েছে। ৩১টি আসনে ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট, যেখানে যত নাম এসআইআরে বাদ গিয়েছে, তার চেয়ে কম ভোটে প্রার্থীরা হেরেছেন। সামনের বছর পঞ্চায়েত নির্বাচন। ২০২৯-এ লোকসভা। কেন কমিশনের খামখেয়ালিপনায় যোগ্য ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন? 
সেই সুর ধরে অধীররঞ্জন চৌধুরী, প্রসেনজিৎ বসুর আইনজীবী রউফ রহিম বলেন, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ায় রেশন বন্ধ করেছে সরকার। এমনকি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। যা শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বিহার এসআইআর রায়ের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, আমরা ফের স্পষ্ট করে দিচ্ছি যে, এসআইআর স্রেফ ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া মাত্র। এর সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারি সুবিধা পাওয়া না-পাওয়ার বিষয়ও নয়। ফলে এসআইআর নাম না থাকায় যারা সরকারি ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত, তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করুন। 
এনিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয়ে সরকার এবং এই প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয় এটা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। হওয়া উচিতও মানুষকে দীর্ঘদিন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা যায় না। তবে তাঁদের ভোটাধিকার বাদ দিয়ে সবই তারা পাচ্ছে। কাউকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ