Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জম্মু-কাশ্মীরে গায়েব ৩১৫ হ্রদ! ক্যাগ প্রকাশিত রিপোর্টে উদ্বেগ

১৯৬৭ সালের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে ৩১৫টি প্রাকৃতিক হ্রদ উধাও হয়ে গিয়েছে। আয়তনে ছোটো হয়ে গিয়েছে আরও ২০৩টি । এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র। বন্যা সহ একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

জম্মু-কাশ্মীরে গায়েব ৩১৫ হ্রদ! ক্যাগ প্রকাশিত রিপোর্টে উদ্বেগ
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

জম্মু: ১৯৬৭ সালের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে ৩১৫টি প্রাকৃতিক হ্রদ উধাও হয়ে গিয়েছে। আয়তনে ছোটো হয়ে গিয়েছে আরও ২০৩টি । এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র। বন্যা সহ একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পুরোটাই হয়েছে প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে। একটি রিপোর্টে এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, ‘৫১৮টি হ্রদ মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৮০০ হেক্টরের বেশি এলাকা কমে গিয়েছে।’ এই অবস্থায় হ্রদ সংরক্ষণের জন্য বাজেট বৃদ্ধি সহ একাধিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের হ্রদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে ক্যাগ। সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূস্বর্গে মোট ৬৯৭টি হ্রদ রয়েছে। এর মধ্যে ৩১৫টি গায়েব হয়ে গিয়েছে। ২০৩টি হ্রদ ছোটো হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩টি হ্রদের এলাকা ৫০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। এমন চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই হ্রদগুলির জল পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে পারে। হ্রদের সংখ্যা কমতে থাকায় বড়োসড়ো ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রকৃতিও। হ্রদ বুজিয়ে ফেলার কারণে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জম্মু-কাশ্মীরে বন্যা হয়েছিল। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গায়েব হওয়া হ্রদের মধ্যে ৮০টি বন বিভাগের আওতায় ছিল। বাকি ২৩৫টি ছিল রাজস্ব ও কৃষি বিভাগের আওতাধীন। 
ভূস্বর্গের মোট ৬৩টি হ্রদ নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল ক্যাগ। এর জন্য উপগ্রহ চিত্র, ক্ষেত্র সমীক্ষা সহ একাধিক তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। তাতেই ধরা পড়েছে এই ভয়াবহ চিত্র। হ্রদ কমে যাওয়ার জন্য বেআইনি কার্যকলাপের পাশাপাশি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বন বিভাগের আওতায় রয়েছে ২৫৫টি হ্রদ। ১৯৮৯ সালের নির্দেশ সত্ত্বেও সেগুলি সংরক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্যাগ জানিয়েছে, ডাল, হোকেরসার সহ মাত্র ছ’টি হ্রদ সংরক্ষণের পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, একাধিক সংস্থাকে এই কাজ দেওয়া হয়েছিল। ফলে যোগাযোগ ঠিকমতো করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে হ্রদ সংরক্ষণের জন্য আইন তৈরির কথা জানিয়েছে ক্যাগ। একইসঙ্গে নিয়মিত সমীক্ষা, বাজেট বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ