


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দোরগোড়ায় বর্ষা। কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন শহর এবং শহরতলির মানুষের ফের জল জমার সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ৮ জুন সময়সীমা ধরে মাঠে নেমেছে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। শুক্রবার সেচ ও পূর্ত দপ্তর এবং রাজ্যের প্রতিটি পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। পুরমন্ত্রী চান, এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, জল জমে সমস্যা সৃষ্টি করে এমন ব্ল্যাক স্পটগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ২২টি স্পট কলকাতা পুর এলাকায় এবং গোটা রাজ্যে শ-তিনেক। এখনই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে। গতবছরের মতো, অতিভারী বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পাম্প প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবারও।
এদিন বিধাননগরে, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রতিটি পুরসভাকে নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার। আবার ৩০০টি ব্ল্যাক স্পটের সমস্যা দূর করতে দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের নিয়ে একাধিক দল তৈরি করা হচ্ছে। তাঁরা এই সমস্ত এলাকায় সশরীরে পৌঁছে যাবেন এবং জল জমার সমস্যা রুখতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করবেন। বেশকিছু এলাকায় পরিদর্শনে যাবেন পুরমন্ত্রী নিজেই। মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে তাঁদের হাতে ৬৭টি পাম্প আছে। আরো বেশি সংখ্যক পাম্প তৈরি রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুর পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের আগামী দু-মাস ছুটি না নেওয়ারও আরজি জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।
বেশ কয়েকটি খালের সংস্কারের কাজ এখনো চলছে। তবে খালধারের দখলদারির সমস্যা মেটাতেও আগামীতে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি বৈঠক করবেন আগামী সপ্তাহে। একইসঙ্গে কোভিডকালের উদাহরণ টেনে পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনোভাবেই বিগত সরকারের মতো কোভিড, ডেঙ্গুর মতো ক্ষেত্রে তথ্য ধামাচাপা দেওয়া হবে না।