


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে কি তৃণমূলকে ‘বন্দি’ করে ফেলার তোড়জোড় চলছে? নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদক্ষেপের পর জোরালো হয়ে উঠেছে এই প্রশ্নই। রবিবার রাতে পানিহাটি ও খড়দহে এক তৃণমূল কাউন্সিলার সহ তিনজন তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি দুই পুরসভার বহু কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে এলাকায় শান্তি নষ্ট করার অভিযোগ তুলে নোটিস ধরানো হয়েছে। সবটাই করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বক্তব্য, সংগঠনহীন বিজেপি হারের আশঙ্কায় কমিশনকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। যদিও পুলিশের দাবি, আইন মেনেই করা হচ্ছে যাবতীয় পদক্ষেপ।
কয়েক দিন আগে বিজেপির ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা। খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন তৃণমূলের কউন্সিলার। দু’পক্ষের তরফে অভিযোগ-পালটা অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তেমনই এক মামলায় পানিহাটির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বপন কুণ্ডুকে রবিবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পানিহাটি পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই মামলায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি দীপ মজুমদার, তাঁর সঙ্গী অভিজিৎ মণ্ডল ওরফে বাটালি বাপ্পাকে ঘোলা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এখানেই শেষ নয়। কয়েক দিন আগে খড়দহ পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাসখোলা ঘাটে এই ফর্ম বিলি নিয়ে দু’পক্ষের বচসা হয়েছিল। ওই ঘটনায় কাউন্সিলার রাজু ভট্টাচার্য, তৃণমূল নেতা রাজকুমার মাইতি সহ বেশ কয়েক জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। খড়দহ থানার পুলিশ রবিবার রাতে রাজকুমার মাইতিকে গ্রেপ্তার করে। শুধু গ্রেপ্তারি নয়, পানিহাটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রদীপ বড়ুয়া, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরিন্দম বিশ্বাস, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জয়ন্ত দাস ওরফে গোবিন্দ সহ আরও অনেক কাউন্সিলার ও বহু তৃণমূল কর্মীকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬ ধারায় এলাকায় শান্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কোনও কাউন্সিলারকে আবার পরপর দু’বার নোটিস দেওয়া হয়েছে।
কাউন্সিলার অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। বুথভিত্তিক সংগঠনও নেই। এখন নির্বাচন কমিশন বিজেপির পার্টি অফিসের রূপ নিয়েছে। বিজেপির ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ী কমিশন নোটিস দিয়ে ভয় দেখাতে চাইছে। আমাদের এক কাউন্সিলার সহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানুষ কমিশনের এই অত্যাচার দেখছে। সবাই ২৯ তারিখের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। বাংলা ও বাঙালির অস্মিতা রক্ষা, নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্র, এসআইআরের নামে বাঙালির উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিতে মুখিয়ে রয়েছে।’ যদিও বিজেপি নেতা মলয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ওরা সবেতেই বিজেপির ভূত দেখছে। পূর্বের মামলা থাকলে ভোটের সময় কমিশন নোটিস পাঠায়। সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার করে। আমাদের অনেককেও নোটিস ধরিয়েছে। ওরা আসলে হারের আতঙ্কে পাগলের প্রলাপ বকছে।’