


সংবাদদাতা, বারুইপুর ও বনগাঁ : গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ল অটো পরিষেবায়। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তত ২৫০টি অটো বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে অটো চালকদের বিরুদ্ধে।
বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটা এলাকায় একাধিক রুটে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এলপিজি অটো চলাচলে করে। গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেল একাধিক রুটের প্রায় ২৫০ অটো। বনগাঁ মতিগঞ্জ থেকে বাগদা, বনগাঁ থেকে গাইঘাটা রুটে একাধিক অটো বন্ধ হয়ে গিয়েছে মূলত গ্যাসের সমস্যায়। বনগাঁ-সভাইপুর রুটেও বেশ কিছু অটো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চালকদের দাবি, বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে গ্যাসের জন্য। ভাড়া না বাড়ানোয় অটো বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। বনগাঁ-সভাইপুর রুটের অটো চালক কমল ঘোষ বলেন, আগে ৭৫- ৮০ টাকা কিলো দরে গ্যাস বিক্রি হত। এখন ১০০-১০৫ টাকা দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো দিন গ্যাস না পাওয়ায় এক ট্রিপ করে বাড়ি চলে যেতে হচ্ছে। তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নারায়ণ ঘোষ বলেন, গ্যাসের সমস্যায় মহকুমায় প্রায় আড়াইশো অটো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বারুইপুরে চালকদের বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বারুইপুর স্টেশন থেকে ৪০০-৫০০ মিটার দূরে যেতে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ অথবা ২০ টাকা। অথচ প্রকৃত ভাড়া ১০ টাকা। অভিযোগ, সুযোগ বুঝে মর্জিমাফিক ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন চালকরা। যার ফলে যাত্রীদের সঙ্গে বচসাও বাধছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি দেখা হবে। অটো ইউনিয়নগুলির সঙ্গে কথা বলা হবে।
বারুইপুর স্টেশন থেকে বারুইপুর পুলিশ জেলা সুপারের অফিস মেরেকেটে ৫০০ মিটার। স্টেশন থেকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের দূরত্বও প্রায় একই। বারুইপুর রেলগেট থেকে হাসপাতাল মাত্র কয়েক মিটার দূরে। যাত্রীদের অভিযোগ, যে কোনো রুটের অটোতে উঠলেই ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কেউ আবার ২০ টাকা নিচ্ছে। না দিতে চাইলে তর্কাতর্কি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক প্রবীণ যাত্রী বলেন, রেলগেট থেকে হাসপাতাল যেতে-আসতে মোট ২০ টাকা লাগত। এখন সেখানে ৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে খুব অসুবিধায় পড়তে হবে যাত্রীদের। অটো চালকদের বক্তব্য, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে দাম বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। আমাদেরও কষ্ট করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এদিকে, বারুইপুর ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন অটো ইউনিয়নের নেতা আবু সুফিয়ান ঘরামী বলেন, আমাদের ইউনিয়ন ভুক্ত কোনো অটো বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছে না। বাইরের অটো চালকরা এসে মর্জিমত ভাড়া নিচ্ছে।