নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও চুঁচুড়া: দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার শ্রীরামপুর থানায় হাজিরা দিলেন অপরূপা পোদ্দার। তৃণমূল কংগ্রেসের আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ এদিন আইনজীবীর কোট গায়ে চাপিয়ে থানায় এসেছিলেন। ঘটনাচক্রে তিনি থানায় যাওয়ার পর থেকেই তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়। যদিও দীর্ঘসময় পরে তিনি থানা থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিনই কলকাতার এনআইএ আদালতে জামিন পেয়েছেন অপরূপার স্বামী তথা রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার সাকির আলি। গত মঙ্গলবার তাঁকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা রিষড়ার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। ২০২৩ সালে রিষড়ায় গোষ্ঠী সংঘাতের মামলায় তাঁকে মূলচক্রী হিসাবে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। বিচারক একগুচ্ছ শর্ত উল্লেখ করে সাকিরের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিন সাংবাদিকদের কোনো বিবৃতি দেননি অপরূপা। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠমহল জানিয়েছে, অপরূপা ও সাকির দু’জনেই আইন, আদালতের উপরে ভরসা রেখে চলতে চান। শুক্রবার প্রায় পৌঁনে ১২টা নাগাদ শ্রীরামপুর থানায় আসেন অপরূপা। তার আগেই থানাকে ঘিরে নিরাপত্তার বিপুল আয়োজন করা হয়েছিল। অপরূপা এদিন আইনজীবীর বেশেই থানায় এসেছিলেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর তিনি থানা থেকে বের হন। তারপরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গে আসা এক আইনজীবী তাঁকে শ্রীরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের সামনে থেকে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি বাড়ি চলে যান।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে রিষড়ায় গোষ্ঠী সংঘাত হয়েছিল। সেই ঘটনায় অপরূপার স্বামী সাকিরকে মূল অভিযুক্ত চিহ্নিত করে গত মঙ্গলবার এনআইএ গ্রেপ্তার করে। সেই সময় পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অপরূপার বিরুদ্ধে। তাঁকে পরের দিন পুলিশ তলব করে। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। এরপর দ্বিতীয়বার তাঁকে পুলিশ তলব করলে শুক্রবার শ্রীরামপুর থানায় হাজির হন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় সুয়োমোটো মামলা হয়েছে। এদিকে, এদিন জামিন পেয়েছেন সাকির। এনআইএ আদালতে তাঁর আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান শর্তসাপেক্ষে জামিনের আবেদন করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যখন ডাকা হবে, তখনই তদন্তকারীদের কাছে হাজিরা দিতে হবে। পাশাপাশি, বিনা অনুমতিতে রাজ্য ছেড়ে যাওয়া যাবে না এবং তদন্ত প্রভাবিত করা যাবে না। এদিন এই মামলার রুদ্ধদ্বার শুনানির আবেদনও করেছিলেন ফজলে আহমেদ। যদিও তাতে সাড়া দেয়নি আদালত।