নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: তিন বন্ধু মিলে এক নাবালিকাকে অপহরণ করে। তিনজনের একজন নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এই ঘটনায় তিন বন্ধুকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিল মেদিনীপুর পকসো আদালত। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর পকসো আদালতের বিচারক আশুতোষ সরকার অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে ও শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় সুব্রত মণ্ডলকে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, নাবালিকাকে অপহরণের ঘটনায় বাকি দুই বন্ধু দীপক বেরা ও আসিফ সিংকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্যাতিতার পরিবার।
মেদিনীপুরে পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী স্বর্ণেন্দু পরিয়াল বলেন, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আদালত তিন বন্ধুকেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ১ আগস্ট পিংলা থানা এলাকায় পাশের গ্রামে টিউশন পড়তে গিয়েছিল অপহৃত নাবালিকা। ফেরার সময়ে নাবালিকাকে তিন বন্ধু অপহরণ করে আটকে রাখে। সুব্রত জোর করে বিয়ে করে নাবালিকাকে। এমনকী নাবালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করে। পরিবারের সদস্যরা বহু চেষ্টা করেও নাবালিকার খোজি পায়নি। পরের দিন ২ আগস্ট নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা পিংলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পিংলা থানার পুলিস। জানা গিয়েছে, ঘটনার ৬০ দিনের মধ্যেই পুলিস চার্জশিট দেয়। এরপর দ্রুত চার্জ ফ্রেম গঠন করা হয়। ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত তিন বন্ধুর সাজা ঘোষণা করা হয়।