সংবাদদাতা, লালবাগ: রেলের রিজার্ভেশন টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করল আরপিএফ। জানা গিয়েছে, আটক ওই দুই যুবকের নাম নজরুল মল্লিক ও সুখচাঁদ শেখ। নজরুল মল্লিকের বাড়ি নদীয়া জেলার পলাশি এবং সুখচাঁদের বাড়ি একই জেলার দেবগ্রাম। সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পূর্বরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশনে রিজার্ভেশন টিকিট নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রিজার্ভেশন টিকিটের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে স্টেশন চত্বরে ঘাঁটি গেড়ে থাকা দালালদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছিল। একাধিকবার বুকিং ক্লার্ককে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশনের এক কর্মী এবং এক অংশের আরপিএফের প্রত্যক্ষ মদতে দিনের পর দিন রিজার্ভেশন টিকিটের কালোবাজারি চলে আসছিল। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থের একটা বড় অংশ চলে যেত টিকিট কাউন্টারের ওই কর্মী এবং আরপিএফের পকেটে। স্থানীয়দের থেকে বিষয়টি জানার পর এলাকার কিছু যুবক নজরদারি শুরু করে। রবিবার রাত থেকে দুই যুবককে রিজার্ভেশন কাউন্টারের সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখে এলাকার যুবকদের সন্দেহ হয়। সোমবার সকালেও তাদের কাউন্টারের সামনেই দেখা যায়। এরপর তাদের চাপ দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পর্দাফাঁস হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল মল্লিক জানায়, কাউন্টারের এক কর্মী এবং আরপিএফের এক অংশের মদতে তারা সমস্ত রিজার্ভেশন টিকিট কেটে নিত। পরে সেগুলি বেশি দামে বিক্রি করত। এরজন্য টিকিট কাউন্টারের ওই কর্মী এবং আরপিএফকে নজরানা দিতে হত। এর আগে সে শিয়ালদহ স্টেশনে একইভাবে রোজগার করত। গত ৬ মাস ধরে মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশনে ঘাঁটি গেড়েছিল। মাসের বেশিরভাগ দিন এখানেই থাকত। অপর যুবক সুখচাঁদ জানায়, সে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। অল্প পরিশ্রমে মোটা অঙ্কের টাকা রোজগারের আশায় গত কয়েকদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির কাজে হাত পাকাচ্ছিল। পরবর্তীতে এলাকার যুবকরা ওই দুইজনকে আরপিএফের হাতে তুলে দেয়। এলাকার যুবক রাজু মজুমদার এবং নিবিড় দাস বলেন, স্থানীয়দের থেকে বিষয়টি জানার পরেই নজরদারি শুরু হয়। এদিন দুইজনকে হাতেনাতে ধরা হয়। তাদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিজেপির মুর্শিদাবাদ লোকসভা সাংগঠনিক সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলকে আবেদন জানিয়েছি।