Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বামী বিজেপি করায় ২০২১ সালে কর্মচ্যুত হয়েছিলেন, কাজ ফিরে পেলেও ভাতা নিয়ে চিন্তায় মিড মে মিলের ২ রাঁধুনি

স্বামী বিজেপির এজেন্ট হয়ে বুথে বসেছিলেন।

স্বামী বিজেপি করায় ২০২১ সালে কর্মচ্যুত হয়েছিলেন, কাজ ফিরে পেলেও ভাতা নিয়ে চিন্তায় মিড মে মিলের ২ রাঁধুনি
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: স্বামী বিজেপির এজেন্ট হয়ে বুথে বসেছিলেন। সেই ‘অপরাধে’ ২০২১ সালের ভোটের পর স্কুলের মিড ডে মিলের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর স্ত্রী সবিতা হাজরা ও তাঁর সহযোগী নিবেদিতা কাঁড়ারকে। তাঁরা মূলত রান্নার কাজ করতেন। এখন পালাবদলের পর তাঁদের দু’জনকেই ফের কাজে নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ভাতা সংক্রান্ত নথির সংযুক্তি না হওয়ায় কাজ করলেও টাকা ঢুকছে না ব্যাংকে। 

Advertisement

উদয়নারায়ণপুরের গড়ভবানীপুর সোনাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গুমগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মিড ডি মিলের রান্নার কাজ করছেন সবিতা হাজরা এবং তাঁর সহযোগী নিবেদিতা কাঁড়ার। অভিযোগ, দীর্ঘদিন স্কুলে রান্না করলেও ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পর কোনো কারণ ছাড়াই তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। সেই জায়গায় নতুন করে দু’জনকে নিয়োগ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এবার তৃণমূল সরকারের পতনের পর ফের সবিতা হাজরা ও নিবেদিতা কাঁড়ারকে রান্নার কাজে বহাল করা হয়। যদিও তাঁদের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়টি ঝুলে থাকায় সমস্যায় পড়েছেন দুই মহিলা। তাঁরা এ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হয়নি। সবিতা হাজরা বলেন, বাম আমল থেকে আমি ওই স্কুলে মিড ডে মিলের রান্নার কাজ করি। ২০২১ সালে ভোটের পর কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে ও নিবেদিতাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আসলে আমার স্বামী বিজেপি করেন বলেই আমাকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমি ও আমার সহযোগী পুনরায় কাজ ফিরে পাই। তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ভাতা পাওয়ার অ্যাকাউন্ট যোগ না হওয়ায় হাতে টাকা পাচ্ছি না। স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তথা উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির শিক্ষক সেলের আহ্বায়ক অভিজিৎ কাঁড়ার বলেন, আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো কারণ ছাড়াই অনৈতিকভাবে ওই দু’জনকে রান্নার কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়ম না মেনেই নতুন দু’জনকে নিয়োগ করা হয়। আমার কোনো কথা শোনা হয়নি। তবে পুরানো দু’জন ফের কাজে বহাল হওয়ায় ভালো লাগছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মুনমুন মাজি বলেন, একটা সমস্যা হলেও দ্রুত তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ