Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফর্ম ফিলআপ করতেই লোপাট ২ লক্ষ টাকা, হ্যাক হোয়াটসঅ্যাপও

ফোনে কেওয়াইসি আপডেটের টোপ দিয়ে প্রতারণা নতুন নয়। এবার ফোন মারফত কেওয়াইসির জন্য ফর্ম ফিলআপ করিয়ে এক প্রৌঢ়ার প্রায় ২ লক্ষ টাকা লোপাট করল প্রতারকরা।

ফর্ম ফিলআপ করতেই লোপাট ২  লক্ষ টাকা, হ্যাক হোয়াটসঅ্যাপও
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফোনে কেওয়াইসি আপডেটের টোপ দিয়ে প্রতারণা নতুন নয়। এবার ফোন মারফত কেওয়াইসির জন্য ফর্ম ফিলআপ করিয়ে এক প্রৌঢ়ার প্রায় ২ লক্ষ টাকা লোপাট করল প্রতারকরা। শুধু তাই নয়, গ্রাহকের হোয়াটসঅ্যাপও হ্যাক করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানা এলাকার ওই প্রতারিত প্রৌঢ়া বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। পুলিসের দাবি, অপরিচিত কাউকে ফোনে ব্যাঙ্ক বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা চলবে না। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কে গিয়ে সহায়তা নেওয়া উচিত।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ওই প্রৌঢ়ার কাছে একটি ফোন এসেছিল। প্রতারক নিজেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাস্টমার ম্যানেজার বলে পরিচয় দেয়। প্রৌঢ়া বিশ্বাস করে ফেলেন। ওই প্রতারক প্রৌঢ়াকে বলেন, আপনার কেওয়াইসি আপডেট করা নেই। বাড়িতে বসেই করে নিতে পারবেন। তার জন্য আপনার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফাইল পাঠাচ্ছি। এরপর সে একটি ফাইল পাঠায়। তারপর দ্বিতীয়বার ফোন করে প্রৌঢ়াকে বলে, ওই ফাইলে একটি ফর্ম আছে। সেটি ফিলআপ করুন। ব্যাঙ্কের সমস্ত তথ্য এবং ফোন নম্বরও দেবেন। সরল বিশ্বাসে ওই প্রৌঢ়া প্রতারকের পাঠানো ফর্ম ফিলাপ করে ফেলেন।
তারপরই দেখেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা লোপাট! এর মধ্যে একটি ই-কমার্স সংস্থা থেকে কেনাকাটা বাবদ ৭৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারপরই ওই প্রৌঢ়া লক্ষ্য করেন, তাঁর দু’টি মোবাইল নম্বর অন্য একটি নম্বরে কল ফরওয়ার্ড হয়ে গিয়েছে। এমনকী, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপও হ্যাক হয়ে গিয়েছে। ওই হোয়াটসঅ্যাপের যে কনট্যাক্ট ছিল, সেই কনট্যাক্টে নানা ধরনের মেসেজ পাঠাচ্ছে প্রতারকরা! প্রৌঢ়ার দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি স্বামীর সঙ্গে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট। কিন্তু, এই ঘটনার পর অনলাইনে তাঁর স্বামী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লগ ইন করতে পারছেন না! 
সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো কোনও ধরনের অচেনা লিঙ্ক বা ফাইলে ক্লিক করা চলবে না। ওই ফাইলের মাধ্যমে ফোন হ্যাক করা যায়। তাছাড়া, ফোনের সমস্ত কিছু প্রতারকদের হাতে চলে যায়। অর্থাৎ, ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাতে। ফলে, পরবর্তী সময়েও যে কোনও ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ