


লন্ডন ও হংকং: ‘...এয়ার ইন্ডিয়া ৩১৫ থেকে বলছি... প্রযুক্তিগত কারণের জন্য আমরা হংকংয়ের কাছেই চক্কর কাটছি। এবং সম্ভবত ফিরে আসছি। কী সমস্যা হচ্ছে বুঝতে পারলেই হংকংয়ে আবার ল্যান্ড করব। আমরা আর এগতে চাই না...।’ সোমবার ভোরেই হংকং থেকে দিল্লি রওনা হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। আচমকা হংকং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে (এটিসি) ভেসে এল পাইলটের রেডিওবার্তা। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিকে ফিরিয়ে আনা হয় হংকং বিমানবন্দরে। একইভাবে রবিবার সফর শেষ না করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে আরও একটি বিমান। সেটি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের। ঘটনাচক্রে দু’টি বিমানই বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত এখনও দগদগে। এর মধ্যে ফের মাঝআকাশে ফের বিপর্যয়ের ভ্রুকূটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে যাত্রী মহলে।
দীর্ঘদিন ধরেই বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারে প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ উঠছে। এদিন ভোর ৫ টা ৩২ মিনিটে হংকং থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়ায় ড্রিমলাইনার বিমানটি। কিন্তু, উড়ান শুরুর ৯০ মিনিটের মধ্যেই মাঝ আকাশে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি লক্ষ্য করেন পাইলট। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বিমানটিকে হংকংয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত যাত্রী ও ক্রু মেম্বাররা অক্ষত। বিমানটির সুরক্ষাব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য দ্রুত বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হবে।
রবিবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ লন্ডনের হিথরো বিমাবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা ছিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ৩৫ বিমানটির। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩৫ মিনিট পর, দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে সেটি উড়ান শুরু করে। সূত্রের খবর, প্রায় দু’ঘণ্টা ওড়ার পর বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের ফ্ল্যাপে সমস্যা দেখা দেয়। তড়িঘড়ি সেটিকে হিথরোয় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফার্ট থেকে আসা লুফৎহানসার একটি ড্রিমলাইনার বিমানও সোমবার ভারতে অবতরণ না করে ফিরে গিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানে বিস্ফোরণের হুমকি মেল এসেছিল। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই পদক্ষেপ। এখানেই শেষ নয়, এদিন ২৪২ জন হজ যাত্রীকে নিয়ে জেড্ডা থেকে ফিরছিল সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সেটির চাকা থেকে আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়।