সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের শ্রীফলা রোডের ‘শ্রী’ ফেরাতে পূর্তমন্ত্রী পুলক রায়ের দ্বারস্থ হলেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর দু’ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি রাস্তাটি দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের জন্য দপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি ও ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেন পূর্তমন্ত্রী। খুশি ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
রামপুরহাটের দুমকা রোডের নিশ্চিন্তপুর মোড়ের ডান দিয়ে গিয়েছে শ্রীফলা রোড। এই রাস্তা দিয়ে কুসুম্বা, আয়াস, নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ শহরে যাওয়া আসা করেন। এছাড়া ১, ১৪ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষেরও প্রধান রাস্তা এটিই। এই রাস্তা দিয়ে রামপুরহাট ১ ব্লক অফিস যাওয়া আসা করেন অনেকে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির নিশ্চিন্তপুর মোড় থেকে ১২০০ মিটার সুঁদিপুর মোড় পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। বর্ষার এই সময়ে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গর্তগুলি জল জমে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই টোটো ও বাইক চালকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে এক বাইক চালকের।
উল্লেখ্য, কয়েকবছর আগে এই রাস্তা ডবল লেন করার কাজে নামে টিআরডিএ। সেই মতো রাস্তার দু’ দিকে মহানালা ও তার উপরে লকিং ব্রিক্স বসিয়ে কিছুটা ফুটপাত করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বছর দুয়েক আগে রাস্তাটি ডবল লেনের করার জন্য রাজ্যে আবেদন জানায় পুবসভা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমোদন মেলেনি। এদিকে প্রতিদিনই এই রাস্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে পুরসভাকে। রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে পথ অবরোধ করে নাগরিক মঞ্চ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও রাস্তা বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এলাকার মানুষ।
এই রাস্তার দু’ দিকে পিডাব্লুডির ঝা চকচকে রাস্তা। মাঝে ১২০০ মিটার পুরসভার অংশ। সেই অংশটুকুই বেহাল। ওই অংশটুকুও পিডব্লুডিকে হস্তান্তর করতে চেয়ে গত জুলাই মাসে চিঠি দেয় পুরসভা। জেলাশাসকও হস্তান্তরের জন্য রাজ্য পূর্তদপ্তরে চিঠি দেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে গত রবিবার টিআরডিএর ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার, পুরসভার চেয়ারম্যান ও আধিকারিকদের নিয়ে রাস্তা পরিদর্শনে আসেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক হয় আপাতত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তুলতে পুরসভার পক্ষ থেকে প্যাচ ওয়ার্ক করা হবে। সেই মতো সোমবার থেকেই কাজ শুরু করেছে পুরসভা। যদিও বাসিন্দারা স্থায়ী সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
এরই মধ্যে এদিন কলকাতায় এই রাস্তা নিয়ে পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বৈঠক করেন আশিসবাবু। তিনি বলেন, প্যাচ ওয়ার্ক একমাসও টিকবে কি না সন্দেহ। রাস্তাটি পুর্তদপ্তরকে হস্তান্তর করতে চেয়ে পুরসভা ও জেলাশাসক চিঠি পাঠিয়েছেন। তাই পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানাই। মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে দপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি ও ইঞ্জনিয়ারকে ফোন করে রাস্তাটি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। রাস্তাটি স্থায়ী সংস্কারের জন্য দু’ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। শ্রীফলা রোডে প্যাচ ওয়ার্কের কাজ শুরু । -নিজস্ব চিত্র