


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: বৈসরণে জঙ্গি হামলা এখন অতীত। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় দু’মাস। এখন স্বাভাবিক জনজীবন। সংখ্যায় অল্প হলেও পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। এই অবস্থায় জম্মু ও কাশ্মীরের মোট ১৬টি পর্যটনস্থলকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল। এরমধ্যে আটটি স্থান রয়েছে জম্মুতে। জম্মুর খুলে দেওয়া স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে সরতাল, বাগের, দেবী পিণ্ডি, শেহর বাবা ওয়াটারফল, সুলহা পার্ক, গুল দণ্ড, জয় ভ্যালি এবং পাঞ্চারি। বাকি আটটি স্থান রয়েছে কাশ্মীরে। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ৪৮টি পর্যটনস্থলের মধ্যে শনিবার থেকে ১৬টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। তিনি বলেন, বদমওয়ারি গার্ডেন, ডাক পার্ক এবং হজরতবালের তাকদির পার্কও মঙ্গলবার খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া বেতাব ভ্যালি, পহেলগাঁও বাজার, বৈরং গার্ডেনও খুলে যাবে মঙ্গলবার। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পরে এই স্থানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
মনোজ সিনহা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বাকিস্থানগুলিও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর বলেন, ‘পর্যটকরা আবার আসতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। সংসদীয় প্রতিনিধিদলও এখানে আসছে। এর জেরে উপত্যকার নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আরও পর্যটক আসবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর আমরা এখন পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি।’
বাকি দেশে যখন গরমে নাভিশ্বাস, তখন মনোরম পরিবেশ কাশ্মীরে। আর সেই মনোরম পরিবেশের আনন্দ আস্বাদন করতে হাজির হন পর্যটকরা। এবার জঙ্গি হামলার জেরে সেই চির চেনা চিত্রে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। তবে পর্যটকদের আনাগোনা একেবারেই থমকে যায়নি। ঈদের ছুটি কাটাতে এবার অনেকেই এখানে এসেছেন। নীবেল ভাট নামে এক যুবক বলেন, ‘পর্যটকদের ভিড় থাকুক বা না থাকুক, আমরা প্রতিবছর পহেলগাঁও আসি। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম লাগছে।’ পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ ইশাক বলেন, ‘মুখে মুখে সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার থেকে ভালো বিজ্ঞাপন আর কিছু হতে পারে না। ঈদের পর থেকে বহু মানুষ পহেলগাঁওতে আসতে শুরু করেছেন। তবে সংখ্যাটা খুব বেশি বাড়ছে না। কারণ সব পার্কই বন্ধ। এবার প্রশাসন কিছু পর্যটনস্থল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পর্যটন বাড়বে বলে আশা করছি।’