Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১৬ বিচারকই ‘বিচারাধীন’ তালিকায়, নথির পাহাড়, মাইক্রো অবজার্ভার-ইআরওর ‘নোট’ই আশা-ভরসা

৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নিষ্পত্তি না হওয়া নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব যাঁদের উপর, সেই বিচারকরদের নামই এবার উঠে এল ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায়

১৬ বিচারকই ‘বিচারাধীন’ তালিকায়, নথির পাহাড়, মাইক্রো অবজার্ভার-ইআরওর ‘নোট’ই আশা-ভরসা
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নিষ্পত্তি না হওয়া নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব যাঁদের উপর, সেই বিচারকরদের নামই এবার উঠে এল ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায়। শনিবার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, ‘অ্যাডজুডিকেশন’ লিস্টে অন্তত ১৬ জন বিচারকের নাম রয়েছে। তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে এই জটিলতা, অন্যদিকে আবার নথির পাহাড় থেকে ‘যোগ্য’ ভোটার খুঁজে বের করা। বিস্তর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বিচারকরা। সূত্রের খবর, বিপুল পরিমাণ নথি ঘেঁটে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। ফলে দায়িত্বে থাকা বিচারকরা অনেকাংশই নির্ভর করছেন মাইক্রো অবজার্ভার, ইআরও এবং এইআরওদের ‘নোটে’র উপর। স্বাভাবিকভাবে তাই যাচাইয়ের তালিকায় থাকা ভোটারদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এক এক দিন গড়ে ৫০টি আবেদন নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিচারকরা। বেশিরভাগ বিধানসভা এলাকায় নিষ্পত্তির দায়িত্বে একজন করে বিচারক রয়েছেন। যেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, সেখানে দু’জন দেওয়া হয়েছে। পাহাড়প্রমাণ আবেদন দেখে অসহায় অবস্থা হচ্ছে বিচারকদের। কারণ, নির্বাচন কমিশন বিচারকদের জন্য যে লগ ইন আইডি দিয়েছে তাতে এইআরও এবং ইআরওদের আপলোড করা সব নথি দেখা যাচ্ছে না। কোনো ভোটারের ক্ষেত্রে পাঁচটি নথি আপলোড হয়ে থাকলে, বিচারকদের নজরে আসছে মাত্র দু’টি। বাকি ডকুমেন্ট দেখতে চাইলে হার্ড কপি নিয়ে বসতে হচ্ছে। আর তা অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ। সূত্রের খবর, ঠিক এই কারণেই মাইক্রো অবজার্ভার এবং ইআরওদের নোটের উপর অনেকাংশে ভরসা করতে হচ্ছে তাঁদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ‘রোল ব্যাকে’র নেপথ্যে মাইক্রো অবজার্ভার বা ইআরওরা যে নোট দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কি সংগত? কারণ, বহু ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্র, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের মতো বৈধ নথি দেওয়ার পরও ভোটারকে ‘রোল ব্যাক’ করানো হয়েছে। রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে জুডিশিয়াল অফিসারদের এসওপি দেওয়া হয়েছে। অবজার্ভারদের ফোন থেকে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব ফোন করে জুডিশিয়াল অফিসারদের থ্রেট দিয়েছেন। আমার সঙ্গে ২০ জন জুডিশিয়াল অফিসারের কথা হয়েছে। তাঁরা এই বিষয়টি জানিয়েছেন।’ তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগ কিন্তু নতুন ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ