সংবাদদাতা, বোলপুর: বন্দেমাতরমের দেড়শো বছরে বুধবার অন্য আবেগে ভাসল বীরভূমের লাভপুর। এই শহর ১২০ বছর আগে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় গড়ে তুলেছিল ঐতিহাসিক বন্দেমাতরম থিয়েটার। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই দিনভর নানা কর্মসূচি হয় বুধবার। এদিন সন্ধ্যায় সারা দেশের সঙ্গে একই সময়ে মঞ্চস্থ হল ‘বন্দেমাতরম: এক দেশ, এক মন্ত্র’ নাটক। প্রায় ৩৯টি ভাষায় দেশজুড়ে এই নাটক পরিবেশিত হয়। বীরভূমে সুযোগ পায় একমাত্র লাভপুরের বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী। কেন্দ্রীয় সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমির উদ্যোগে দেশের দেড়শো মঞ্চে একযোগে এই নাটক পরিবেশিত হয় বুধবার। লাভপুরের সংস্কৃতি ভবনে উপচে পড়ে দর্শকের ভিড়। এদিন সকালেই বের হয় বন্দেমাতরম রথ। শহর পরিক্রমায় পা মেলান ছাত্রছাত্রী, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যায় ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ৯৮ বছরের চিকিৎসক সুকুমার চন্দ্র, (বিশু ডাক্তার)। তিনি কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসক ছিলেন। স্বাধীনতার সময় তারাশঙ্করের সঙ্গে প্রভাত ফেরিতেও হেঁটেছিলেন সুকুমারবাবু। প্রায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বাড়তি আবেগ যোগ করে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝা, সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, বিজেপির দুই সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। উদ্যোক্তা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, বন্দেমাতরমের দেড়শো বর্ষে বিশু ডাক্তারকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। প্রসঙ্গত, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় নির্মলশিব বন্দ্যোপাধ্যায়, নিত্যগোপাল মুখোপাধ্যায়দের উদ্যোগে লাভপুরে গড়ে ওঠে ‘বন্দেমাতরম থিয়েটার’। নির্মলশিব ছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামা শ্বশুর। তাঁকেই নিজের গুরু বলে মানতেন সাহিত্যিক। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করেই এদিন লাভপুরে ধ্বনিত হল একটাই মন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’। লাভপুরে মঞ্চস্থ হল ‘বন্দেমাতরম: এক দেশ, এক মন্ত্র’ নাটক। -নিজস্ব চিত্র



