Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্মলচরের ১৫ হাজার মানুষ হাসপাতাল, বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত

নির্মলচরে ১৫ হাজার মানুষের জন্য নেই হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। বিস্তারিত পড়ুন।

নির্মলচরের ১৫ হাজার মানুষ হাসপাতাল, বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: রানিতলা থানার আখরিগঞ্জ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নির্মলচর। পদ্মার বুকে জেগে ওঠা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিস্তীর্ণ চর এলাকায় প্রায় ১৫ হাজারের মানুষের বসবাস। অথচ এখানে নেই কোনো হাসপাতাল। সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য চরের বাসিন্দাদের নদী পেরিয়ে ছুটতে হয় নশিপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এদিকে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ৮-১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতেই তিন-চার ঘন্টা লেগে যায়। কাজেই মুমুর্ষ রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের লোকজনকে ইষ্টনাম জপ করতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে পথেই রোগীর মৃত্যুও হয়। স্বাভাবিকভাবেই নাগালের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে চরের বাসিন্দারা গত কয়েক দশক ধরে একটি হাসপাতালের দাবি জানিয়ে আসছেন।  ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মিললেও চরের বাসিন্দাদের দাবি পুরণ হয় না।  অনগ্রসর, জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। 

Advertisement

আখরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের ১৮টি সংসদের মধ্যে ৮টি রয়েছে নির্মলচরে। চরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এহেন চরে মনসুরপুর, নির্মলচর, পূর্ব ও পশ্চিম পাইকমারি, চরপাতিবোনা, চর মস্তানাপাড়া,  ঘোষ পাড়া, শয়তানপাড়া, চর কৃষ্ণপুরের মতো ১৯ টি গ্রাম রয়েছে। চর এলাকায় রয়েছে ১ টি জুনিয়ার হাই স্কুল এবং ৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এত সংখ্যক মানুষের জন্য আছে একটি মাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেখানে এএনএম দিয়ে গর্ভবতী মা ও সদ্যজাতের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আজও চরের গ্রামগুলিতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছয়নি। নেই যোগাযোগের জন্য কোনো সড়ক পথ। স্বাভাবিকভাবে চরের বাসিন্দাদের তৃতীয়  শ্রেণির নাগরিকের মত জীবনযাপন করতে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চরের বাসিন্দা রহমান শেখ, আসগর আলিরা। তাঁরা বলেন, ভৌগলিক কারণে আমরা সাধারণ নাগরিকের সমস্ত রকম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। হাসপাতালের পরিষেবা ছাড়াও মাধ্যমিকের শিক্ষা নিতে গিয়েও আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। জানি না কবে ওই সব সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। ঘোষপাড়ার ইনতিয়াজ শেখ বলেন, বছর দুই আগে সাপে কাটার পর লিটন শেখ নামের এক যুবককে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারার কারনে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। চরে হাসপাতাল থাকলে অন্তত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যেত। নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা ভোট চাইতে এসে চরের বাসিন্দাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কয়েক দশক ধরে এভাবেই চলছে। কিন্তু চরের বাসিন্দাদের হাসপাতালের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গিয়েছে। চর কৃষ্ণপুরের ষাটোর্ধ্ব  ইনসান শেখ বলেন, ভোটের সময় নেতাদের আমাদের কথা মনে পড়ে। তাই আমাদের দাবি পূরণ হয়না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ