Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

কেন্দ্রের অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের তালিকা থেকে বাদ ১০০ দিনের কাজ

আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আর্থিক ঘাটতি প্রতিরোধে মোদি সরকার ব্যয় সংকোচের কর্মসূচিতে কোপ পড়েছে ১০০ দিনের কাজে

কেন্দ্রের অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের তালিকা থেকে বাদ ১০০ দিনের কাজ
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আর্থিক ঘাটতি প্রতিরোধে মোদি সরকার ব্যয় সংকোচের কর্মসূচিতে কোপ পড়েছে ১০০ দিনের কাজে। চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অক্টোবর মাস থেকেই এই প্রকল্পে গ্রামীণ ভারতে প্রবল চাহিদা আসতে শুরু করে কাজের দাবিতে। সুতরাং রাজ্যগুলি থেকে আসা রিপোর্টে কেন্দ্র বুঝতে পারছিল যে, বরাদ্দ অর্থে কাজের চাহিদা অনুযায়ী মজুরি মেটানো সম্ভব নয়। জানুয়ারির মধ্যেই ৮৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে যায়। আর এখন বরাদ্দকৃত অর্থ প্রায় তলানিতে। এমতাবস্থায় এই আর্থিক বছর ৩১ মার্চ যখন শেষ হতে চলেছে, তার প্রাক্কালে বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত অর্থ অর্থমন্ত্রক বরাদ্দ করতে চলেছে। সোমবার ৫১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ চেয়েছে অর্থমন্ত্রক। সেই টাকা যে কাজে ব্যয় করা হবে বলে তালিকা পেশ করা হয়েছে, সেখানে ১০০ দিনের কাজ নেই। 

Advertisement

তালিকায় প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ব্যয়বরাদ্দ হচ্ছে ৮৪৭৬ কোটি টাকা, যোগাযোগ মন্ত্রকের জন্য ১০ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রকের জন্য ১৩ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। কৃষিপ্রকল্পের জন্য বাড়তি বরাদ্দ ৬০৪৪ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ নিধি প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ১৮৫ কোটি। প্রসঙ্গত ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকারত্বকে অনেকটাই সামাল দেওয়া যায়।  পরিযায়ী শ্রমিকরা যদি শহরে যথাযোগ্য কাজের সন্ধান না পায়, তাহলে তারা গ্রামে ফিরে ১০০ দিনের কাজের আবেদন করে। ২০২৪ সালের বাজেটে ৮৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করার কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এই অর্থবর্ষে ১১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে পরিকাঠামো উন্নয়নে। এরফলে আশা করা যায় ১০০ দিনের কাজের চাহিদা কমে যাবে। অথচ আদতে সেপ্টেম্বর মাস আসার পর‌ ঩দেখা যায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে গতি নেই। দুই ত্রৈমাসিক চলে যাওয়ার পর লক্ষ্য করা যায় ১১ লক্ষ কোটি টাকার সিংহভাগই রাজকোষে পড়ে আছে। অর্থাৎ ব্যয় করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে ভাটা পড়লে শ্রমিকদের কাজ জুটবে না। তাই গ্রামীণ ভারতে কাজের চাহিদা বেড়ে যায়। আর সেই কারণেই ১০০ দিনের কাজের উপর চাপ বাড়ে রাজ্যে রাজ্যে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক অর্থমন্ত্রকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে চিঠিও দেয়। কিন্তু আর্থিক বছর শেষ হতে চলল, অতিরিক্ত টাকা জুটল না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ