Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমাদের পাড়া’ ক্যাম্পে জমা পড়া কাজে পূর্ব মেদিনীপুরে ১০০ কোটি

আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান ক্যাম্পে জমা পড়া কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকা পেল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। চার দফায় ওই পরিমাণ টাকা এসেছে বলে পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনির্বাণ কোলে জানিয়েছেন।

‘আমাদের পাড়া’ ক্যাম্পে জমা পড়া কাজে পূর্ব মেদিনীপুরে ১০০ কোটি
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান ক্যাম্পে জমা পড়া কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকা পেল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। চার দফায় ওই পরিমাণ টাকা এসেছে বলে পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনির্বাণ কোলে জানিয়েছেন। পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর জেলাজুড়ে পুরোদমে ওই কাজ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার জেলাশাসক অফিসে এনিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয়। সেখানে জেলাশাসক পূর্ণেন্দুকুমার মাজী, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ), জেলা পরিষদের সচিব সৌম্য চট্টোপাধ্যায় এবং উপ সচিব তথা আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি ডিস্ট্রিক্ট নোডাল অফিসার শুভ সিংহরায় উপস্থিত ছিলেন। পুজোর পরই জেলাজুড়ে একযোগে ওই কাজ হবে।পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট বুথের সংখ্যা ৪৪২০টি। মোট ১৬১৯টি ক্যাম্প হওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই জেলায় ১৬০৯টি ক্যাম্প হয়েছে। তাতে মোট ১৭লক্ষ ৪৬হাজার ২৯৬জন মানুষ শামিল হয়েছেন। এপর্যন্ত ৭০হাজার ২০৯টি কাজের পরিকল্পনা স্কিম হিসেবে জমা পড়েছে। বুথপিছু ১৬টি কাজের পরিকল্পনা জমা পড়েছে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ৩৫হাজার ৩০৯টি স্কিম অনুমোদন করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯৬কোটি ১৮লক্ষ ১৩হাজার টাকা মূল্যের ৭০০১টি স্কিমের টেন্ডার সম্পূর্ণ হয়েছে। এছাড়াও ১৩হাজার ১২৩টি কাজের টেন্ডার এই মুহূর্তে অনলাইনে ওপেন আছে। ক্যাম্পে জমা পড়া মোট প্রকল্পের মধ্যে রাস্তা মেরামতের কাজ ৪৯.৯৯ শতাংশ। এছাড়া, স্ট্রিট লাইট ১৯.৮৮ শতাংশ, পানীয় জল সরবরাহ ৮.১০ শতাংশ এবং নিকাশি বিষয়ক স্কিম আরও ৫.৩৯ শতাংশ। রাস্তার ধারে সোলার লাইট বসানোর জন্য অচিরাচরিত শক্তি বিভাগের কাছে মোট ৪৮২০টি স্কিম পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প মূল্য প্রায় ২৯কোটি টাকা। এছাড়া, পিএইচই দপ্তরের কাছে আরও ৪৪৮টি স্কিম পাঠানো হয়েছে। তার প্রকল্পমূল্য প্রায় ২কোটি ৩৬লক্ষ টাকা।

Advertisement

জেলায় বেশকিছু জায়গায় আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান স্কিমের কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ঠিকাদারদের একটা অংশ। এনআরইজিএ থেকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন এবং পারফরম্যান্স বেসড গ্র্যান্টে কাজ করেও তাঁদের অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি। বিশেষ করে ১০০ দিনের কাজে প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু নানা ঠিকাদার এজেন্সির কমবেশি এক কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া আদায়ের দাবিতে তাঁরা ব্লক থেকে জেলায় ডেপুটেশনও দিয়েছেন। এই অবস্থায় ঠিকাদারদের একাংশ আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মহিষাদলের কিসমত নাইকুণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঠিকাদার উত্তম পাল এবং লক্ষ্যা-১গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠিকাদার অমিত বাগ বলেন, এনআরইজিএ সহ বিভিন্ন স্কিমে কাজ করার পরও বিলের টাকা পাওয়া যায়নি। যে কারণে অনেক এজেন্সি আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রোগ্রামে কাজ করতে আগ্রহী নন। যদিও মহিষাদলের বিডিও বরুণাশিস সরকার বলেন, টেন্ডার এজেন্সি আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে একটা অংশ থেকে অপপ্রচার করা হচ্ছে। বাস্তবে তা নয়।
জেলাশাসক বলেন, ক্যাম্প প্রায় শেষের মুখে। এই মুহূর্তে আমরা টেন্ডারের উপর জোর দিচ্ছি। তবে, পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর একযোগে কাজ শুরু হবে। তখন বৃষ্টির সম্ভাবনাও প্রায় থাকবে না। ওই আবহাওয়া রাস্তাঘাট কাজের পক্ষে উপযুক্ত। একযোগে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজ শুরু হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ